বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ও জ্বালানি তেলের দাম কমে এসেছে। তাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোটটি। খবর রয়টার্স ও দ্য ন্যাশনাল।
গতকাল এক অনলাইন বৈঠকে জোটটি টানা পঞ্চম মাসের মতো উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি নেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী মাসে জোটের মূল সাতটি সদস্য দেশ সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে। এর আগে জুন ও জুলাইয়েও জোটটি একই পরিমাণ উত্তোলন কোটা বাড়িয়েছে। এর আগে এপ্রিল ও মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জোট ছাড়ার আগে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে জোটের সদস্য দেশগুলো স্বেচ্ছায় প্রতিদিন ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
আগস্টের নতুন কোটা অনুযায়ী, শীর্ষ উত্তোলক দেশ সৌদি আরব প্রতিদিন ৬২ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বেশি উত্তোলন করবে। এতে দেশটির দৈনিক মোট উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৪ লাখ ব্যারেলে। আরেক শীর্ষ দেশ রাশিয়াও দৈনিক ৬২ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়িয়ে দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা ৯৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে নিয়ে যাবে। এছাড়া ইরাক প্রতিদিন ২৬ হাজার ব্যারেল, কুয়েত ১৬ হাজার ব্যারেল ও কাজাখস্তান ১০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াবে। বাকি দুই দেশ আলজেরিয়া ও ওমান যথাক্রমে দৈনিক ছয় হাজার ও পাঁচ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওপেক প্লাস জানায়, তারা বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এ উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা স্থগিত করার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী ২ আগস্ট জোটের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কারণে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসছে। ফলে ব্যবসায়ীদের ভীতি কেটে গেছে এবং জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ কমে আগের অবস্থানে ফিরেছে। তবে এপ্রিলের শেষে ইউএই জোট ছেড়ে দেয়ায় এবং ইরাক নিজস্ব উত্তোলন কোটা বাড়ানোর দাবি তোলায় ওপেক প্লাস কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখেও রয়েছে।