উদ্যোক্তা নির্বাচন ও পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবে বিসিকে বাড়ছে রুগ্‌ণ শিল্পের সংখ্যা

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) রুগ্‌ণ ও বন্ধ শিল্পের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) রুগ্‌ণ ও বন্ধ শিল্পের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) বর্তমানে ৮২টি শিল্পনগরী রয়েছে। এসব শিল্পনগরীর মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে রুগ্‌ণ শিল্পের সংখ্যা ছিল ৫১২টি। পরের অর্থবছরে (২০২১-২২) এ শিল্পের সংখ্যা আরো বেড়েছে। ওই অর্থবছরে রুগ্‌ণ শিল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০৫টিতে। পরবর্তী সময়ে ৪৪টি শিল্প পুনরায় চালু হওয়ায় সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৬১টিতে। তবে বিসিক বলছে, ওই অর্থবছরে ৯৮টি শিল্প পুনরায় চালু হয়।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বিশ্বায়ন এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রভাব এ সেক্টরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পজাত পণ্য বাজারজাতে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাটি বিদ্যমান ও নতুন শিল্পোদ্যোগকে সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা বললেও তা পর্যাপ্ত নয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিসিকের এক তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায়, রুগ্‌ণ ও বন্ধ শিল্পের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সঠিক উদ্যোক্তা নির্বাচন করতে না পারা, মূলধনের অভাব, ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সমস্যা, শিল্প স্থাপনে যথাযথ ব্যবসা পরিকল্পনা না থাকা, কাঁচামালের অভাব, পণ্য বৈচিত্র্যকরণের উদ্যোগ না থাকা ও স্থানীয় বাজারে বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারা ইত্যাদি। যদিও সংস্থাটির কার্যক্রমের ক্ষেত্রই হচ্ছে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, পণ্য বিপণন ও অর্থায়নে সহায়তা, পরিবেশবান্ধব শিল্প পার্ক স্থাপন, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেয়া। তবে রুগ্‌ণ শিল্প বৃদ্ধির পেছনে এ বিষয়গুলোতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবই মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, সারা দেশে বিসিকের ৮২টি শিল্পনগরীর সবগুলোই নানা সমস্যায় জর্জরিত। কোথাও প্লট বরাদ্দ নিলেও কারখানা হয়নি, আবার একসময় কারখানা থাকলেও এখন বাড়ি, দোকান কিংবা গুদামে পরিণত হয়েছে। যেখানে কারখানা করেছেন মালিকরা, স্বস্তিতে নেই তারাও। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে ধুঁকছেন তারা। নিরাপত্তাহীনতার কারণে কারখানায় চুরি হচ্ছে প্রায়ই। বর্জ্য ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার অভাবে কোনো কোনো শিল্পনগরী পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। এসব নিয়ে বিসিকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

বিসিকের প্রতিবেদন বলছে, বরিশাল বিসিকে রুগ্‌ণ শিল্পের সংখ্যা সাতটি হলেও সেখানে প্লট খালি পড়ে আছে ১০৯টি। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, এখানে প্লট বরাদ্দ নিলেও সুযোগ-সুবিধা এবং মূলধনের অভাবে অনেকেই এখনো কার্যক্রমই শুরু করতে পারেননি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমস্যা হচ্ছে, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি সুবিধা না থাকা। বিশেষ করে বরিশাল বিসিকে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় এখানে চলমান বহু প্রতিষ্ঠান রুগ্‌ণ শিল্পে রূপ নেয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। 

বিসিকের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিসিকের অধিকাংশ শিল্পনগরীতে গ্যাস-সংযোগ নেই। যেগুলোতে আছে, সেগুলোর বেশির ভাগে গ্যাসের চাপ অনেক কম। পানির পাম্প থাকলেও বিসিক চাহিদামতো পানি দিতে পারছে না। কিছু শিল্পনগরীতে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় পানি উঠছে না। মালিকরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পানির চাহিদা পূরণ করছেন।

বিসিক রাজবাড়ীর বিশ্বাস রাইস মিলসের উদ্যোক্তা মো. আলম বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখানে গ্যাস নেই। গ্যাস থাকলে অনেক ভালো হতো। বাকি সুযোগ-সুবিধা যা আছে, তা আমার অসুবিধা হচ্ছে না। তবে গ্যাসটা খুব প্রয়োজন।’ 

কেরানীগঞ্জ শিল্পনগরী কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটি ঢাকার সবচেয়ে কাছের একটি শিল্পনগরী হলেও কারখানায় এখন পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ নেই। এখানে কার্যক্রমের গ্রোথটা যেভাবে হওয়ার কথা ছিল সেভাবে হয়নি। বড় ইমারতও তৈরি হয়নি। অন্যদিকে বাজেট সমস্যার কারণে রাস্তা করা হচ্ছে না।’ 

এ বিষয়ে বিসিকের পরিচালক মুহা. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

আরও