ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে বাজারে কিছু অনিশ্চয়তা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার পূর্বাভাসে কোনো পরিবর্তন আনেনি প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।
বোয়িং চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানায়, ২০২৬-৪৫ সালের মধ্যে বিশ্বে মোট ৪৩ হাজার ৬২৫টি নতুন যাত্রী ও পণ্যবাহী উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রয়োজন হবে।
বোয়িংয়ের হিসাবে আগামী ২০ বছরে ৩৩ হাজার ৫৪৫টি সিঙ্গেল আইল বা এক করিডোরের উড়োজাহাজ, ৭ হাজার ৭১৫টি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ, ৯৩০টি কারখানায় তৈরি কার্গো উড়োজাহাজ ও ১ হাজার ৪৩৫টি আঞ্চলিক উড়োজাহাজের চাহিদা তৈরি হবে।
সম্প্রতি ইউরোপের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস চাহিদার পূর্বাভাস ১ শতাংশ কমিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে বাজারে কিছুটা প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছে। তবে বোয়িং মনে করছে, এসব ঘটনা স্বল্পমেয়াদি। দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণের চাহিদা শক্তিশালী থাকবে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর বৈশ্বিক যাত্রী পরিবহন ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়বে। গত বছর এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে বোয়িং কমার্শিয়াল মার্কেটিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যারেন হালস্ট বলেন, ‘বর্তমান ধীরগতি কভিড-১৯ মহামারীর সময়ের মতো দীর্ঘমেয়াদি সংকট নয়। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক যাত্রী পরিবহন ফের প্রত্যাশিত ধারায় ফিরে আসবে।’
বোয়িংয়ের হিসাবে, আগামী ২০ বছরে বৈশ্বিক যাত্রী পরিবহন বছরে গড়ে ৪ শতাংশ হারে বাড়বে। একই সময় পণ্য পরিবহন বাড়বে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বৈশ্বিক উড়োজাহাজ বহরের আকার বছরে গড়ে ৩ শতাংশ হারে বাড়বে। এ সময় বিশ্ব অর্থনীতি বাড়বে গড়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নতুন উড়োজাহাজের চাহিদা এখনো নির্মাতাদের সরবরাহ সক্ষমতার চেয়ে বেশি। গত বছর যাত্রী পরিবহন করোনা-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে এলেও উড়োজাহাজ সরবরাহ ২০১৮ সালের উৎপাদন পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনি।
বোয়িংয়ের ধারণা, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে প্রায় দুই হাজার উড়োজাহাজের ঘাটতি থাকবে। বিশেষ করে সিঙ্গেল আইল উড়োজাহাজের ঘাটতি চলতি দশকের শেষ পর্যন্ত থাকতে পারে।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি উড়োজাহাজ বিক্রি হবে চীনে। মোট বিক্রির ২১ শতাংশ হিস্যা থাকবে দেশটির দখলে। অন্যদিকে ইউরেশিয়ার হিস্যা ২০ শতাংশ। উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হিস্যা হবে ১৯ শতাংশ করে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দখলে থাকবে ১০ শতাংশ, লাতিন আমেরিকা ৬ এবং ওশেনিয়া ও উত্তর-পূর্ব এশিয়া ৫ শতাংশ।
তবে বাজারের ইতিবাচক চিত্রের পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বোয়িং। এছাড়া ৭৩৭ ম্যাক্স ৭, ৭৩৭ ম্যাক্স ১০ ও ৭৭৭-৯ মডেলের অনুমোদন পেতেও বিলম্ব হচ্ছে।
ভিপি ড্যারেন হালস্ট বলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্য, পর্যটন, অভিবাসন ও বিভিন্ন এয়ারলাইনসের রুট সম্প্রসারণের কারণে দীর্ঘমেয়াদে উড়োজাহাজের চাহিদা শক্তিশালী থাকবে। মানুষের ভ্রমণ ও পণ্য পরিবহনের প্রয়োজন কমছে না। তাই নতুন উড়োজাহাজের বাজারও দীর্ঘমেয়াদে সম্প্রসারণ হবে।’