আন্তর্জাতিক রুটে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে পাইলটদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)। বৈশ্বিক এয়ারলাইনসগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটি বলছে, বিশ্বব্যাপী আকাশপথে যাত্রী পরিবহনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যার তুলনায় পাইলটের জোগান কমে যাচ্ছে। খবর রয়টার্স।
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) সাধারণ অধিবেশন। সেখানে পাইলটদের অবসরসীমার প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পাইলট ইউনিয়নগুলো এর বিরোধিতা করেছে।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী পাইলটরা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম মেনে চলে।
প্রায় ৩৫০টি এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিত্বকারী আইএটিএ বলেছে, অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ, যা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে।
আইএটিএ আরো বলছে, যদি একজনের বয়স ৬৫ বছরের বেশি হয় তাহলে প্রতিটি ফ্লাইটে ন্যূনতম দুজন পাইলট থাকতে হবে। অন্যজনের অবশ্যই ৬৫ বছরের কম বয়সী হতে হবে। প্রস্তাবটি এরই মধ্যে আইসিএওর ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে।
এর আগে ২০০৬ সালে পাইলটদের অবসরসীমা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করেছিল আইসিএও।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় পাইলট ইউনিয়নগুলো নিরাপত্তা উদ্বেগ সামনে রেখে অবসরের বয়সসীমা আরো বাড়ানোর বিরোধিতা করছে। আমেরিকান এয়ারলাইনসের পাইলট ও অ্যালাইড পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (এপিএ) মুখপাত্র ডেনিস টাজার বলেন, ‘আমাদের হাতে অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জুয়া খেলতে পারি না আমরা।’
২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসে অবসরের বয়সসীমা ৬৫-৬৭ করার একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তবে সেটি ব্যর্থ হয়। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একটি দল ট্রাম্পের প্রশাসনকে আন্তর্জাতিকভাবে পাইলটদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর উদ্যোগকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে।