করপোরেট জায়ান্ট আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইদু-কে যুক্তরাষ্ট্র এমন কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেগুলো চীনের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। এর ফলে দেশটির সবচেয়ে পরিচিত বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডগুলোর কিছু যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় যুক্ত হলো। খবর আল জাজিরা।
পেন্টাগন গতকাল এক হালনাগাদ তালিকায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার তথ্য দিয়েছে। এতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নড়বড়ে হয়ে থাকা সম্পর্ক আরো জটিলতার দিকে গড়াতে পারে।
চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস এ তালিকাভুক্তিকে ‘বৈষম্যমূলক’ উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্তভাবে সম্প্রসারিত’ করছে।
দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিদেশে ব্যবসা করা চীনা কোম্পানিগুলো ওই সব দেশের আইন ও বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ভুল নীতি প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি ন্যায্য, সুবিচারপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’
চীনের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স কোম্পানি আলিবাবা বলেছে, এ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ‘কোনো ভিত্তি নেই’।
কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, ‘আলিবাবা কোনো চীনা সামরিক কোম্পানি নয় এবং এটি সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কৌশলের অংশও নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কোম্পানিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেব।’
তবে বিওয়াইডি ও বাইদু তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
পেন্টাগনের ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’র তালিকা প্রতি বছর হালনাগাদ করা হয়। এখন মোট ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় রয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে ছিল ১৩৪টি।
২০২১ সালে প্রথমবার তালিকাটি তৈরি করা হয়। এতে থাকা প্রতিষ্ঠান ও তাদের নিয়ন্ত্রিত সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য বিবেচিত হয় না।
পেন্টাগনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ হলো এমন প্রতিষ্ঠান যা চীনা সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত, অথবা যেগুলো চীনের ‘সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়’ নীতিতে অবদান রাখে। এর মাধ্যমে বেইজিং বেসামরিক গবেষণা ও প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনকে একীভূত করে।
তালিকাভুক্ত হতে হলে কোম্পানিগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে কিছু কার্যক্রমও থাকতে হয়।