এক চুক্তির আওতায় কেনিয়া থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার কর্মী নেবে জার্মানি। দক্ষ ও অদক্ষ দুই ধরনের কর্মীকে নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশটিতে কাজের সুযোগ দেয়া হবে। খবর বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এ চুক্তির মাধ্যমে জার্মানির শ্রমবাজারে বিদ্যমান কর্মী ঘাটতি পূরণ হবে। একই সঙ্গে কেনিয়ার তরুণদের কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের অংশ হিসেবে পাঁচ কেনীয় বাসচালক জার্মানির ফ্লেনসবার্গ শহরে পৌঁছেছেন।
অবৈধভাবে জার্মানিতে থাকা কেনীয়দের দেশে ফেরানোর বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ ও কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো সম্প্রতি বার্লিনে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তির অধীনে জার্মানিতে প্রচলিত অভিবাসন আইনে কিছুটা শিথিলতা আসবে। এতে কেনিয়ার নাগরিকরা জার্মানিতে কাজ করতে পারবেন। যেসব কেনীয় চাকরি পাবেন তাদের অস্থায়ী আবাসন ভিসাও বাড়ানো হতে পারে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, পড়াশোনা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের জন্য কেনীয়দের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দেয়া হবে। এ ভিসার মেয়াদ শেষে তারা দুই বছরের জন্য অস্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবেন।
এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে নথিগত যোগ্যতা না থাকলেও কেনিয়ার কর্মীদের জার্মানিতে কাজের অনুমতি দেয়া হবে। দুই দেশের সরকার তাদের অনুমোদিত প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রিধারীদের অভিবাসনে সহযোগিতা করবে।
কেনিয়ার আইনজীবী একুরু আওকট এ চুক্তির সমালোচনা করে বলেন, ‘এতে দেশে দক্ষ জনবলের অভাব দেখা দেবে।’ অন্যদিকে কেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রোসেলিন এনজোগু বলেছেন, কেনিয়ার কর্মবাজারের চাপ কমাতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
বার্লিন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তুলনামূলকভাবে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে অভিবাসনের অনুমতি দিয়েছে। ২০১৫-১৬ সাল থেকে ধরা হয় অভিবাসী সংকটের সময়। এ সময় জার্মানিতে ১০ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল, যাদের বেশির ভাগই সিরিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে রাশিয়ার আক্রমণের শুরু থেকে আশ্রয় নিয়েছে ১২ লাখ ইউক্রেনীয়।