সর্বশেষ নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদহার ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখল যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই)। এ ঘোষণা বাজারের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। খবর আনাদোলু।
গত বছরের আগস্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে পাঁচবার সুদহার কর্তন করেছে বিওই। সর্বশেষ বৈঠক থেকে আসা সিদ্ধান্তে ওই প্রবণতার সমাপ্তি ঘটল।
যুক্তরাজ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আড়াই বছর অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির প্রভাব পড়ে। ওই সময়ের পর এখন মূল্য সংকোচন অনেকটাই কমেছে। এতে সহায়ক ভূমিকায় ছিল কঠোর মুদ্রানীতি। এ কারণে গত এক বছরে সুদহার কর্তন সম্ভব হয়েছে। কমিটির এখনকার মূল মনোযোগ যেন পুরনো বা নতুনভাবে স্থায়ী মূল্যস্ফীতির চাপ না থাকে, যাতে মাঝারি মেয়াদে টেকসইভাবে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যে পৌঁছায়।
ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, মূল্য সংকোচনের মূল প্রবণতাগুলোর পতন অব্যাহত রয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় পণ্যের দাম কমার চেয়ে মজুরি বাড়ার চাপ কমার দিকেই বেশি অগ্রগতি হয়েছে।
গত মাসে যুক্তরাজ্যে বার্ষিক সিপিআই মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা জুলাইয়ের সমান থাকলেও ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসে সামান্য বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও পরে তা ২ শতাংশ লক্ষ্যের দিকে নামবে। বিওই সতর্ক করে বলছে, এ সাময়িক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি মজুরি ও দামের নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করতে পারে।
আরো বলা হচ্ছে, ব্রিটিশ অর্থনীতি ধীরগতিতে বাড়ছে, শ্রমবাজার কিছুটা শিথিল এবং অর্থনীতিতে অতিরিক্ত সক্ষমতা বিদ্যমান। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঝুঁকিও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ধীরগতির দিকে চাপ দিচ্ছে। তাই মুদ্রানীতির নিয়ন্ত্রণ ধীরে ও সতর্কভাবে প্রত্যাহার করাই এখন উপযুক্ত পদক্ষেপ।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড গত এক বছরের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলছে, ব্যাংক রেট কমানোয় মুদ্রানীতির কঠোরতা কিছুটা শিথিল হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ নিয়ন্ত্রণ কী পরিমাণ ও কত দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে, তা নির্ভর করবে মূল্য সংকোচনের মূল প্রবণতার ওপর।