ট্রাম্পের কড়া বক্তব্যের পর জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর ভাষা ব্যবহারের পর আজ জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। ‘পুরো ইরান এক রাতে ধ্বংস করে দিতে পারি’ বলে গতকাল মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর রয়টার্স।

আজ সকালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৫৭ সেন্ট বা দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ৩৪ সেন্টে পৌঁছায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ ডলার ২৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৩ ডলার ৬৭ সেন্ট।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়।

আজ রাতেই যুদ্ধবিরতির জন্য বেধে দেয়া ৪৮ ঘণ্টা শেষ হচ্ছে। যদিও এর মাঝে ইরানে হামলা বন্ধ নেই। ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানকে আর সময় দেয়া হবে না। তিনি চাইলে আজ রাতেই পুরো ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারেন।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘ট্রাম্পের দেয়া সময়সীমা ঘনিয়ে এসেছে। জ্বালানি তেল বাজারে সময় গণনা এখন প্রায় চাহিদা-জোগানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

তিনি আরো বলেন, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে দামের ওপর কিছুটা চাপ কমতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ঝুঁকি এবং ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামোর কারণে দাম খুব একটা নিচে নামার সম্ভাবনা সীমিত।

এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আজ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি প্রস্তাবে ভোটাভুটির কথা রয়েছে। তবে কূটনীতিকরা জানান, ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন চীন বলপ্রয়োগ অনুমোদনের বিরোধিতা করেছে। এতে প্রস্তাবটি অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে।

ইরান যুদ্ধের দুই মাসে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের রিফাইনারিগুলো বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের স্পট প্রিমিয়াম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সৌদি আরামকো এশিয়ার জন্য মে মাসে সরবরাহযোগ্য ‘আরব লাইট’ ক্রুডের দাম বাড়িয়েছে, যা ওমান ও দুবাইয়ের গড় দামের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১৯ ডলার ৫০ সেন্ট প্রিমিয়ামে পৌঁছেছে—এটি একটি রেকর্ড।

সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। কারণ গতকাল রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় কৃষ্ণসাগরে অবস্থিত ক্যাসপিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ টার্মিনাল বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিচালনা করে।

জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস আগামী মাসে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উত্তোলনের বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে প্রণালী বন্ধ থাকায় রফতানি সীমিত হওয়ায় এ বৃদ্ধি বাস্তবে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না।

আরও