২০৩০ সাল নাগাদ মূল্যবান ধাতুর বাজার ৩৬০ কোটিতে উন্নীত করবে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ধাতব পদার্থের তালিকায় রয়েছে স্বর্ণ, অলংকার, স্বর্ণের বার ও রুপা। ২০২০ সালে দেশটিতে অলংকারের বাজার ছিল ২৩০ কোটি ডলার বা ৮৫২ কোটি আমিরাতি দিরহাম। ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
সম্প্রতি দেয়া সাক্ষাৎকারে ডিএইচ ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী বাস কুজিম্যান দাবি করেন, সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের তুলনা স্বর্ণ নিজেই। একদিকে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগকে বহুমাত্রিক করতে চান। জুয়েলারি খাতেই রাখতে চান বিনিয়োগের ৫-১০ শতাংশ। যথাযথ অংশীদার পেলে বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিন্তে স্বর্ণ আমানত রাখতে পারেন। তাছাড়া সময়ের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়লেও পরিমাণ স্থির থাকে। সেক্ষেত্রে নিজের কাছে স্বর্ণ জমিয়ে রাখাটা বাজারে আধিপত্য তৈরিতে খুব বেশি লাভজনক অবস্থা তৈরি করবে না। মধ্যপ্রাচ্যের স্বর্ণের বাজারে সংযুক্ত আরব আমিরাত নেতৃত্বের আসনে রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরের জুয়েলারি বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে। গত বছর আরব আমিরাতের ভোক্তারা মোট ৪৬ দশমিক ৯ টন স্বর্ণ কিনেছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি।
খ্রিস্টপূর্ব চার হাজার বছর আগ থেকে স্বর্ণকে মানুষ মূল্যবান সম্পদ বিবেচনা করে আসছে। স্বর্ণকে দীর্ঘ সময় থেকেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মনে করা হয়। তবে আরব আমিরাতের স্বর্ণ শিল্পকে এগিয়ে নিতে চালকের ভূমিকা পালন করছেন ভারতীয় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা। আরব আমিরাতে প্রায় ২৮ লাখ ভারতীয় বসবাস করে, যা মোট জনসংখ্যার ২৭ শতাংশেরও বেশি। ভারতের সবচেয়ে বেশি নন-রেসিডেন্ট ইন্ডিয়ান (এনআরআই) বসবাস করে আরব আমিরাতে। প্রায় ৭৬ লাখ ভারতীয়ের বসবাস মধ্যপ্রাচ্যে। স্বর্ণ খাতে এ জনসংখ্যা প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। বছরওয়ারি ২০২২ সালে চাহিদা বেড়েছে ১৫০ শতাংশ।
স্বর্ণ অনেক আগ থেকেই বৈশ্বিক অর্থনীতির চালক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও অধিকাংশ মানুষই বুঝতে পারে না স্বর্ণের বাজারের গতিবিধি। আবাসন খাতের মতো স্বর্ণেরও ইতিহাসজুড়ে নিজস্ব অবস্থান ছিল সবসময়। কিন্তু আবাসন খাতের মতো ট্যাক্স ও মেরামত ব্যয় ছিল না। চলছে ক্রিপ্টোকারেন্সির যুগ। ডিজিটাল মুদ্রা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে পৃথিবীব্যাপী। তার পরও বিনিয়োগ ও সম্পদ জমানোর প্রশ্ন এলে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে স্বর্ণ। স্বর্ণের দাম বাজারে সরবরাহ, চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আরব আমিরাতের বর্তমান সরকার দুবাইকে ‘স্বর্ণের শহর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।