বিদেশী নাগরিকদের একটি নির্দিষ্ট অংশকে নাগরিকত্ব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। অর্থনীতিতে প্রবাসীদের আরো বড় অংশীদার করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো উপসাগরীয় আরব দেশটি বিদেশীদের নাগরিকত্ব দিতে যাচ্ছে। গত শনিবার উন্মোচিত এ ঘোষণার লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রমণ ও অর্থ কেন্দ্র এবং লাখ লাখ বিদেশীদের আবাসস্থল ইউএইর অর্থনৈতিক ভীত শক্তিশালী করা। খবর ব্লুমবার্গ।
এ ঘোষণার পর রোববার দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারের সূচকগুলো প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে। বিদেশী বাসিন্দারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশেরও বেশি এবং কয়েক দশক ধরে তারা দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে অবদান রাখছে। তবে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠাসহ দেশটিতে নাগরিকত্ব নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।
এখন তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশটি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বৈচিত্র্য আনতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা বিদেশী এবং সীমিত আকারে নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছে। এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় পরিষেবায় যুক্তসহ বিশেষ ক্ষেত্রে বিদেশীদের নাগরিকত্ব দেয়া হয়। নতুন পরিবর্তনগুলো প্রক্রিয়াটিকে আনুষ্ঠানিক ও প্রশস্ত করবে।
ইউএইর প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম বলেন, নতুন নির্দেশনার লক্ষ্য হলো, আমাদের উন্নয়ন যাত্রায় অবদানে মেধাবীদের আকর্ষণ করা। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিল্পী, লেখক ও তাদের পরিবারসহ নির্বাচিত বিনিয়োগকারী এবং পেশাদারদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে।
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রিসভা, স্থানীয় আদালত ও কার্যনির্বাহী পরিষদ প্রতিটি বিভাগের জন্য নির্ধারিত মানদণ্ডের অধীনে নাগরিকত্বের জন্য যোগ্যদের মনোনীত করবে। এ আইনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্ট গ্রহণকারীদের বিদ্যমান নাগরিকত্ব বজায় রাখতেও সহায়তা করবে।
কায়রোভিত্তিক ইএফজি-হার্মিস হোল্ডিংয়ের সামষ্টিক অর্থনীতির গবেষণা প্রধান মোহাম্মদ আবু বাশা বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে একটি আর্থিক, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করতে এটি আরো একটি মাইলফলক। এ পরিধি যত বিস্তৃত হবে, জনসংখ্যার গুণগত বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব আরো স্পষ্ট হবে।
উপসাগরীয় সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাদের লাখ লাখ বিদেশী কর্মীকে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়ার বিরোধিতা এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগগুলো কেবল নাগরিকদের জন্য রক্ষা করে আসছে। তবে ২০১৪ সালে তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণে তেলসমৃদ্ধ দেশটির অর্থনীতিকে জীবাশ্ম জ্বালানি পরবর্তী জগতের জন্য প্রস্তুত করতে বাধ্য হয়েছিল। দেশটি এখন ধনী লোকদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য প্ররোচিত করছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব ও কাতার কিছু প্রবাসীকে স্থায়ীভাবে বাসবাসের সুযোগ দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত বছর ইউএই সংস্থাগুলোয় আমিরাতি শেয়ারহোল্ডারদের প্রয়োজনীয়তা বিলুপ্ত করেছিল। নভেল করোনাভাইরাস মহামারী এবং তেলের দাম পড়ে যাওয়ার পর বিনিয়োগ আকর্ষণ করার লক্ষ্যে এটি বিদেশী মালিকানা আইনের একটি বড় পদক্ষেপ। এর আগে বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও বিশেষ দক্ষ মেধাবী ও গবেষককে পাঁচ থেকে দশ বছরের ভিসা দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল। এর আওতায় পাঁচ বছরের ভিসা পাওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ১৪ লাখ ডলার এবং দশ বছরের ভিসার জন্য দ্বিগুণ পরিমাণ বিনিয়োগের প্রয়োজন ছিল।