বিশ্বে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) বিক্রির পরিমাণ কমেছে। জানুয়ারিতে ৬ লাখ ৭২ হাজার ইভি বিক্রি হয়। গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় ইভি বিক্রি অর্ধেক নেমেছে। পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় জানুয়ারিতে বৈশ্বিক গাড়ি বিক্রিতে ইভির হিস্যা ২৩ শতাংশ থেকে নেমেছে ১৪ শতাংশে। দাম কমিয়েও অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারেননি উৎপাদকরা। গত বছরের তুলনায় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ শতাংশ। ইভি খাতে প্রণোদনার পরিমাণ কমায় ভোক্তাদের মাঝে এর চাহিদা কমেছে। বৃহস্পতিবার নরওয়েভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেইস্টাড এনার্জি কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
রেইস্টাড এনার্জির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অভিষেক মুরালি প্রতিবেদনে লেখেন, ‘ইভির বৈশ্বিক বাজার পরিবর্তিত হচ্ছে। ভোক্তাদের মধ্যে ইভির চাহিদা এখনো ব্যাপক। কিন্তু এটি পরিষ্কার যে করছাড় ও ভর্তুকি ভোক্তার আগ্রহকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
তবে সার্বিকভাবে ইভির বাজার বাড়ছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিকভাবে বিক্রীত মোট গাড়ির অর্ধেক হবে ইভি। ২০২০ সালে মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ। ২০৪০ সাল নাগাদ তা ৭ কোটি ৩০ লাখে উন্নীত হবে। এ সময়ের মধ্যে বৈশ্বিক মোট গাড়ি বিক্রিতে ইভির অনুপাত ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাসে জানা যায়।
অনেক দেশের সরকার নাগরিকদের ইভি ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ভর্তুকি ও করছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। তবে সেসব সুবিধা পেতে ভোক্তার নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১০ সাল থেকে করছাড় দেয়া হচ্ছে। তবে তা বরাদ্দ ছিল অন্তত বার্ষিক ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয়ের নাগরিকদের জন্য। ৮০ হাজার ডলার কিংবা ততোধিক মূল্যমানের বিলাসবহুল গাড়ির জন্য এ করছাড় প্রযোজ্য ছিল না। গত বছরের আগস্টে এ সীমারেখা তুলে নেয় ওয়াশিংটন। আরো বেশি ভোক্তাদের এ সুবিধা দিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে জানুয়ারিতে প্রায় ৮০ হাজার ইভি বিক্রি হয়। এ পরিমাণ ইভির মোট বাজারের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
চীনে জানুয়ারিতে ইভি বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কমেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতির দেশে এ বছর ইভি বিক্রির পরিমাণ কমে প্রায় ৮০ লাখে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাসে জানা যায়। তবে ব্যাটারির দাম কমানোর সাম্প্রতিক ঘোষণা বিক্রি আবারো ত্বরান্বিত করতে পারে বলে চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স সূত্রে জানা গেছে।
ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতেও কমেছে ইভি বিক্রির পরিমাণ। ফলে দেশটিতে ইভির মার্কেট শেয়ার ডিসেম্বরের ৫৫ শতাংশের তুলনায় জানুয়ারিতে মাত্র ১৫ শতাংশে নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসেও ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে অর্ধেকে নেমেছে ইভি বিক্রির পরিমাণ। বার্ষিক হিসাবে ফ্রান্সে ইভির বাজার গত বছরের ১৮ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে নরওয়ের ক্ষেত্রে তা ৯০ শতাংশ থেকে ৭৬ শতাংশে নেমেছে। ইতালি, সুইডেন ও স্পেনের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি।