জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে জেলায় মসুর ও খেসারি ডাল উৎপাদন কমেছে ৬০-৭৫ শতাংশ। তাছাড়া পাঁচ-ছয় বছর ধরে উৎপাদিত হয় না ছোলা, বুট ও অড়হর ডাল। সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ বলছে, দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ধীরে ধীরে সাতক্ষীরায় ডালজাতীয় ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ মৌসুমে জেলায় খেসারি ডাল আবাদ হয় ২ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে। সেখানে ২০২৬ মৌসুমে আবাদ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে আবাদ কমেছে ১ হাজার ৪৫ হেক্টর।
মসুর ডালের অবস্থাও প্রায় একই। ২০২১ মৌসুমে জেলায় মসুর ডালের আবাদের পরিমাণ ছিল ৬৫৫ হেক্টর। সেখানে ২০২৬ মৌসুমে আবাদ নেমে এসেছে মাত্র ২০৮ হেক্টরে। পাঁচ বছরে এ শস্যজাতীয় ফসলের আবাদ কমেছে ৪৪৭ হেক্টর। অন্যদিকে ছোলা, বুট ও অড়হর ডালের উৎপাদন নেই বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার পানিয়া গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, কম খরচে অন্য ফসলের পাশাপাশি খেসারি ডাল উৎপাদন করা যায়। কোনো রকম চাষ দিয়ে বীজ বপন করলেই ফলত ডাল। তাই এক দশক আগেও তাদের গ্রামে শত শত বিঘা জমিতে খেসারি ডাল চাষ হয়েছে। কিন্তু গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে ক্রমাম্বয়ে জমিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। এতে ফসলটির উৎপাদন কমে যাওয়ায় আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক।
তিনি আরো জানান, গত মৌসুমে দেড় বিঘা জমিতে খেসারি ডাল চাষ করেন। অথচ পাঁচ বছর আগেও ছয়-সাত বিঘা জমি চাষ করেছেন তিনি। কিন্তু পানিয়া গ্রামের অধিকাংশ কৃষক আগের মতো আর খেসারি উৎপাদন করেন না। কৃষকের আগ্রহ বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আরো সহায়তা ও সম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
কলারোয়া উপজেলার কোমরপুর গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম পিন্টু জানান, কয়েক বছর আগেও তার গ্রামে ব্যাপকভাবে ছোলা, মসুর ডাল চাষ হতো। কিন্তু বর্তমান যৎসামান্য মসুর ডাল চাষ হলেও ছোলা একেবারেই চাষ হয় না।
তিনি আরো জানান, ছোলা ও মসুর ডাল শীতকালীন ফসল। কিন্তু ছয়-সাত বছর ভরা মৌসুমেও শীতের দেখা মেলে না। ফলে এর প্রভাব পড়ছে ডালজাতীয় ফসলের ওপর। আগে বাণিজ্যিকভাবে ছোলা ও মসুর ডাল চাষ করা হলেও এখন কেবল পরিবারের চাহিদা মেটনোর জন্য অল্প কিছু মসুর ডাল চাষ হয়। তাছাড়া গ্রামের কোনো কৃষক ছোলা চাষ করেন না।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ডালজাতীয় শস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন। এর মধ্যে জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া, মৌসুমি বৃষ্টিপাত না হওয়া, অসময়ে অতিমাত্রায় বর্ষণ ও তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। এ কারণে ডালসহ অনেক ফসল আর আগের মতো হচ্ছে না। তাছাড়া এ জেলার কৃষকরা এখন ডালের চেয়ে ধান ও মাছ চাষে বেশি আগ্রহী। ফলে ডালজাতীয় ফসল উৎপাদন কমে এসেছে। তার পরও ডাল চাষ ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’