বিশ্ববাজারে বেড়েছে কফি, কোকো ও চিনির দাম

বিশ্ববাজারে কফি, কোকো ও চিনির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ায় প্রক্রিয়াজাত বেড়ে যাওয়া এবং আবহাওয়া ও সরবরাহ সংকটে গত শুক্রবারে বাজারে এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ায় কোকোর চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ার খবরে দাম হুহু করে বাড়তে থাকে। লন্ডনের আইসিইতে কোকোর ভবিষ্যৎ চুক্তিমূল্য ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৪ হাজার ২৭০ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক বাজারে কোকোর দাম ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৫ হাজার ৮২২ ডলারে পৌঁছেছে।

ন্যাশনাল কনফেকশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) উত্তর আমেরিকায় কোকো প্রক্রিয়াজাত আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৫৯ টনে দাঁড়িয়েছে। এশিয়ায় এ প্রক্রিয়াজাত আরো বেশি, প্রায় ২৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে ইউরোপের বাজারে প্রক্রিয়াজাত ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

এদিকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কফি উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনামে অভ্যন্তরীণ বাজারে কফির দাম নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। দেশটির মূল কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসে প্রতি কেজি কফি বিন প্রায় ৩ ডলার ৭০ থেকে ৩ ডলার ৭৩ সেন্টে (৯৭ হাজার ২০০ থেকে ৯৮ হাজার ডং) বিক্রি হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে অনেক বেশি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক মাসের মধ্যে কফির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় ক্রেতারা কিছুটা ধীর নীতি অবলম্বন করছেন। তবে বাজারে সরবরাহ খুবই সীমিত। লন্ডনের এক্সচেঞ্জে কফির মজুদ এখনো কম এবং ইন্দোনেশিয়ার নতুন কফি বাজারে আসতে দেরি হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে রোবাস্তা কফির দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৩ হাজার ৮৬৭ ডলার পৌঁছেছে।

অন্যদিকে অ্যারাবিকা কফির দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি পাউন্ড ৩ ডলার ১৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। বিএমআইয়ের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এল নিনোর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের কারণে ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত কফির উৎপাদন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্রাজিলের অ্যারাবিকা উৎপাদনকারী অঞ্চলে তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া ফসলের ফলন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

কোকো ও কফির পাশাপাশি চিনির বাজারেও দাম বেড়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অপরিশোধিত চিনির দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি পাউন্ড ১৪ পাউন্ড ৬৬ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। সাদা চিনির দামও ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৪৬১ ডলার ২০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈরী আবহাওয়া ও বৈশ্বিক চাহিদার এ পরিবর্তন আগামী দিনগুলোয়ও খাদ্যপণ্যের বাজারকে অস্থির করে রাখতে পারে।

আরও