গুঁড়া দুধের চাহিদা বৃদ্ধি

বিশ্ববাজারে বেড়েছে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম

এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সূচক বাড়ল। নিলামে বিক্রি হওয়া দুগ্ধপণ্যের গড় দাম ছিল প্রতি টনে প্রায় ৩ হাজার ৯১০ ডলার। মোট ৪৩ হাজার ৯৭৬ টন দুগ্ধপণ্য বিক্রি হয়েছে। এতে অংশ নেন ১৫৭ জন ক্রেতা।

বিশ্ববাজারে গুঁড়া দুধের চাহিদা বাড়ায় দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেড়েছে। সর্বশেষ গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) ৪১১তম নিলামে স্কিম মিল্ক পাউডারের (এসএমপি) দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। দুধের প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। খবর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড, ইডেইরি নিউজ ও এগ্রিল্যান্ড।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জিডিটির নিলামে সামগ্রিক মূল্যসূচক বেড়েছে দশমিক ৯ শতাংশ। এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সূচক বাড়ল। নিলামে বিক্রি হওয়া দুগ্ধপণ্যের গড় দাম ছিল প্রতি টনে প্রায় ৩ হাজার ৯১০ ডলার। মোট ৪৩ হাজার ৯৭৬ টন দুগ্ধপণ্য বিক্রি হয়েছে। এতে অংশ নেন ১৫৭ জন ক্রেতা।

ফারমারস উইকলির তথ্যমতে, স্কিম মিল্ক পাউডার বা ননিছাড়া গুঁড়া দুধের দাম এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় নিলামে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর আগে অনুষ্ঠিত নিলামে পণ্যটির দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছিল। সর্বশেষ বাড়ার পর প্রতি টন এসএমপির দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬৬৫ ডলার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটিই পণ্যটির সর্বোচ্চ দাম।

সাধারণত ফুল ক্রিম বা ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের (ডব্লিউএমপি) দাম ননিছাড়া গুঁড়া দুধের চেয়ে বেশি থাকে। কারণ এতে দুধের ফ্যাট বা চর্বি থাকে। কিন্তু দুধের প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় এবার পরিস্থিতি বদলে গেছে। এসএমপির দাম ডব্লিউএমপির দামকে ছাড়িয়ে গেছে।

সর্বশেষ নিলামে হোল মিল্ক পাউডারের (ডব্লিউএমপি) দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি টনে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৫ ডলারে নেমেছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। বিশ্বের শীর্ষ দুগ্ধ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ফনটেরার সরবরাহ প্রায় ৮ শতাংশ বাড়ালেও এর নেতিবাচক প্রভাব তেমন পড়েনি। অতিরিক্ত সরবরাহ ক্রেতারা তুলনামূলক স্বচ্ছন্দে গ্রহণ করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজিল্যান্ড এক্সচেঞ্জের দুগ্ধবাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ক্রিস্টিনা আলভারাডো বলেন, ‘মৌসুমি সরবরাহ বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে জিডিটির সর্বশেষ ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে বেশি স্থিতিশীল ছিল।’ গুঁড়া দুধের চাহিদা তুলনামূলক বেশি বলেও জানান তিনি।

দুগ্ধজাত চর্বি ও পনিরের বাজারে পরিস্থিতি এবার ছিল ভিন্ন। এবারের নিলামে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট (এএমএফ) বা দুগ্ধজাত বিশুদ্ধ চর্বির দাম ১ দশমিক ৩ এবং বাটার বা মাখনের দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। চেডার পনিরের দাম কমেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিটির নিলামে চেডারের দাম এবার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব দুগ্ধবাজারে এখন পণ্যভেদে চাহিদার পার্থক্য স্পষ্ট। প্রোটিনসমৃদ্ধ পণ্যের চাহিদা বাড়ায় গুঁড়া দুধের দাম ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিপরীতে দুগ্ধজাত চর্বি ও পনিরের বাজারে সরবরাহের চাপ রয়েছে।

এদিকে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দুধ উৎপাদন বেড়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ আরো বাড়তে পারে। তবে প্রোটিনসমৃদ্ধ দুগ্ধপণ্যের চাহিদা শক্ত থাকলে বাড়তি সরবরাহের চাপ সামলে দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর পরবর্তী জিডিটি নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। সাম্প্রতিক সময়ে গুঁড়া দুধের দামে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা অব্যাহত থাকে কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে বাজারসংশ্লিষ্টদের।

আরও