বিশ্ববাজারে কয়লা ও নিকেলের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে উত্তোলনের পরিমাণ বা কোটা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট খনি মালিক ও ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপারেটররাও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করছেন। খবর নিক্কেই এশিয়া।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে তাপীয় কয়লার বৃহত্তম রফতানিকারক ইন্দোনেশিয়া। পাশাপাশি স্টেইনলেস স্টিল ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) ব্যাটারির প্রধান কাঁচামাল নিকেল উৎপাদনেও শীর্ষে দেশটি। ২০২২ সালে দুটি পণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়লেও পরবর্তী সময়ে তা অনেক কমে যায়। মূলত বাজারে সরবরাহ কমিয়ে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেই এখন উত্তোলন হ্রাসের কৌশল নিয়েছে দেশটির সরকার।
ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া গত সপ্তাহে জানান, ডিসেম্বরে ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কয়লা ও নিকেল উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে কয়লার দাম কিছুটা বাড়লেও সরকার নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
জাকার্তায় সাংবাদিকদের লাহাদালিয়া বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কয়লা ও নিকেলের সরবরাহ এবং উত্তোলনকারীরা যাতে এগুলোর ন্যায্যমূল্য পায় তা নিশ্চিত করা। বর্তমানে আমাদের খনিজ পণ্যগুলোর প্রচুর উত্তোলন হচ্ছে, যার ফলে বাজারমূল্য কমে গেছে। প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই উত্তোলন কমিয়ে আনা প্রয়োজন।’
ইন্দোনেশিয়ার খনিজ সম্পদ বিষয়ক মহাপরিচালক ট্রাই উইনারনো জানান, চলতি মাসের শেষ নাগাদ কয়লা উত্তোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৭৯ কোটি টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছর তা কমিয়ে ৬০ কোটি টনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
তবে দেশটির সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে খনি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ান কোল মাইনিং অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক গীতা মাহিয়ারানি জানান, উত্তোলন কমানোর বিষয়টি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। অনেক খনি মালিককে এরই মধ্যে উত্তোলন ৪০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে তিনি এ সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।