ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) উপাচার্য পদে যোগ দিয়েছেন দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এম আর কবির। বুধবার (৯ জুলাই) তিনি এ পদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। একই দিনে ডিআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টি তার যোগদান গ্রহণ করে।
এর আগে গত ৩০ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী চার বছরের জন্য ড. এম আর কবিরকে ডিআইইউয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
দীর্ঘ ৪৪ বছরের শিক্ষকতা, গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে অধ্যাপক কবিরের। ২০২১ সালের জুলাই থেকে তিনি ডিআইইউয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) উপ-উপাচার্য হিসেবে চার মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক থাকা অবস্থায় তিনি প্রাথমিক অবসর নেন। তিনি বুয়েট সিন্ডিকেট সদস্য ও ২০১৬ সাল থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) বোর্ড অব অ্যাক্রিডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশনের (বিএইটিই) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের (আইডব্লিউএফএম) বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য ছিলেন ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ ও গবেষক হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ইউনিভার্সিটি অ্যাট অস্টিন, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা ও নেদারল্যান্ডসের টিইউ ডেলফট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৮০ সালে ভারতের রুরকি বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমানে আইআইটি রুরকি) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক, ১৯৮৪ সালে বুয়েট থেকে পানি সম্পদ প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ও ইউনেস্কো ফেলোশিপে ১৯৮৫ সালে ভারতের আন্না বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি সম্পদ প্রকৌশলে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরে বেলজিয়ামের ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব লুভেন থেকে পিএইচডি অর্জন করেন।
সুদীর্ঘ পেশাজীবনে তিনি নানা গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করেছেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নাল, সম্মেলন ও প্রতিবেদনে ৪৯টি প্রযুক্তিগত প্রকাশনা লিখেছেন। তার নেতৃত্ব ও অবদানের জন্য তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১৫-২০২১ পর্যন্ত তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালে তিনি ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল ফর টোটাল কোয়ালিটি অ্যান্ড এক্সিলেন্স ইন এডুকেশন থেকে ‘কোয়ালিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ ও ২০১২ সালে মালয়েশিয়ার পেনাং থেকে ‘অনুকরণীয় নেতৃত্ব পুরস্কার’ লাভ করেন। —বিজ্ঞপ্তি