হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে চলাচল করা যাত্রীদের শুল্ক সংক্রান্ত সেবা দেয় ঢাকা কাস্টম হাউজ।
আমদানীকৃত ব্যাগেজের রাজস্ব আদায়, চোরাচালান ও অর্থ পাচার নিরোধের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে সংস্থাটি। তবে জনবল সংকটে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভারতে চলাচল করা মিতালী ও মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের শুল্কসংক্রান্ত দায়িত্ব ছাড়তে চায় ঢাকা কাস্টম হাউজ। এ দায়িত্ব কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটকে (উত্তর) দিতে চায় সংস্থাটি। সম্প্রতি এক চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) জানিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউজ কমিশনার একেএম নুরূল হুদা আজাদ।
ঢাকা কাস্টম হাউজ সূত্রে আরো জানা যায়, তাদের অনুমোদিত জনবল ৬৩২ জন। কিন্তু বর্তমানে তাদের জনবল আছে ৪৩২ জন। এ জনবল দিয়ে রফতানি কার্যক্রমের পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে যাত্রীসেবা, শুল্ক করাদি আদায়, চোরাচালান ও অর্থ পাচার রোধে কাজ করছে তারা। সংস্থাটি জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ২০-২৫ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করে। একই সঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা থেকে একজোড়া আন্তঃদেশীয় মৈত্রী ও মিতালী একপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। এজন্য বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া যাত্রীদের সেবা দিতে চারটি শিফট চালু রয়েছে এবং দুটি গ্রিন চ্যানেল দিয়েও যাত্রীসেবা দেয় সংস্থাটি। বিমানবন্দরের পাশাপাশি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে কাজ করতে গিয়ে ঢাকা কাস্টম হাউজের বেশ কিছু জনবলকে দাপ্তরিক কাজের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এজন্য দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে বেগ পেতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই জায়গায় কাজ করতে গিয়ে তাদের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুই জায়গায় কাজ করার জন্য ঢাকা কাস্টম হাউজের লজিস্টিক সুবিধারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, ঢাকা কাস্টম হাউজের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন অন্তর্ভুক্ত নেই। যার জন্য বর্তমানে ও ভবিষ্যতে এ স্টেশনে জনবল পদায়নে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এছাড়া এনবিআরের বর্তমান আদেশ অনুযায়ী বর্তমান সচল প্রত্যেক স্থল শুল্ক স্টেশন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হয়। তাই তারা মনে করে এ শুল্ক স্টেশন সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকাই বাঞ্ছনীয়।
ঢাকা কাস্টম হাউজ আরো জানায়, ২০০৭ সালে এক প্রজ্ঞাপনের ঢাকা কাস্টম হাউজকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের শুল্ক আনুষ্ঠানিকতা শেষের দায়িত্ব দেয়। দায়িত্ব পাওয়ার পরই ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রীদের শুল্ক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত জনবলের চাহিদাপত্র দেয় এনবিআরকে। কিন্তু এনবিআর ওই অতিরিক্ত জনবল এখনো অনুমোদন দেয়নি। এছাড়া পরে ২০০৮ সালে এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা-দর্শনা-কলকাতা রেলপথকে অনুমোদিত রুটে যাত্রীবাহী ট্রেনে নির্গমনকারী যাত্রীদের চলাচলের উদ্দেশ্যে স্থল শুল্ক স্টেশন (এলসি) ঘোষণা করা হয়। ঢাকা-দর্শনা-কলকাতা রেলপথকে অনুমোদিত রুট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া এ স্টেশনটি এনবিআরের আদেশ অনুযায়ী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে প্রতিদিন গড়ে কুরিয়ার ইউনিট থেকে প্রায় দুই হাজার এবং কার্গো ইউনিট থেকে প্রায় দুই হাজার বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়। সীমিত জনবলের কারণে এ বন্দর দিয়ে পণ্য খালাসে গড়ে সাতদিন ব্যয় হয় বলে টাইম রিলিজ স্টাডিতে উঠে এসেছে। এ সময় কমাতেও তাদের সুপারিশ করা হয়েছে।