দাঁত পরিষ্কারের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে নতুন ধরনের স্মার্ট টুথব্রাশ বাজারে এনেছে ব্রিটিশ প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ডাইসন। এর দাম ৪২০ পাউন্ড। বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি। বিশেষ টুথব্রাশটি দিয়ে শুধু দাঁত পরিষ্কার নয়, মুখের ভেতরের সরাসরি ভিডিও দেখা যাবে।
ডাইসনের নতুন টুথব্রাশে রয়েছে ক্যামেরা, মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ও মাউথওয়াশ ছিটানোর ব্যবস্থা। ব্রাশ করার সময় ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ‘মাইডাইসন’ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি দেখা যাবে। এতে ব্যবহারকারী দাঁতের কোন অংশ পরিষ্কার করছেন, তা দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে দাঁত পরিষ্কারের পদ্ধতি নিয়েও অ্যাপ থেকে পরামর্শ পাওয়া যাবে।
কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, টুথব্রাশটি তৈরিতে ডাইসনের সময় লেগেছে ছয় বছর। এতে কাজ করেছেন ৬৬১ জন প্রকৌশলী। ব্রাশটিতে রয়েছে এক লাখ পিক্সেলের ম্যাক্রো লেন্স ক্যামেরা। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি উচ্চমানের এন্ডোস্কোপের মতো কাজ করে। ফলে ব্যবহারকারী অনেকটা দাঁতের চিকিৎসকের মতো করে নিজের মুখের ভেতর দেখতে পারবেন।
ডাইসনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রকৌশলী জেমস ডাইসন গত মঙ্গলবার প্যারিসে এক অনুষ্ঠানে নতুন টুথব্রাশটি উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, ‘মুখের ভেতর কোথায় প্লাক (জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া, লালা ও খাদ্যকণার একটি পাতলা, আঠালো ও বর্ণহীন বা হালকা হলদে আস্তরণ) জমে, তা বোঝার জন্য প্রতিষ্ঠানটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা করেছে।’
টুথব্রাশটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দাঁতের ফাঁকে মাউথওয়াশ ছিটানো। ক্যামেরা দাঁতের মাঝের ফাঁক শনাক্ত করতে পারলে ব্রাশের সঙ্গে থাকা জেট থেকে সেখানে অল্প অল্প করে মাউথওয়াশ ছিটানো হবে। একই সময় ব্রাশটি মাড়ি পরিষ্কার করবে ও দাঁতের ওপরের দাগও দূর করবে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
ডাইসনের দাবি, বাজারের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রিক টুথব্রাশের তুলনায় এটি ৭২ শতাংশ পর্যন্ত বেশি প্লাক দূর করতে পারে। এর সঙ্গে বিশেষ ধরনের নন-ফোমিং টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশও পাওয়া যাবে। প্রতিটির দাম ৮ পাউন্ড ৫০ সেন্ট। এছাড়া ফেনা তৈরি হলে ক্যামেরার দৃশ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই ডাইসনের এ টুথপেস্টে কোনো ফেনা তৈরি হয় না।
স্মার্ট টুথব্রাশের বাজারে ডাইসন নতুন হলেও প্রতিযোগিতা কম নয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অ্যাপ-নিয়ন্ত্রিত উন্নত টুথব্রাশ বাজারে এনেছে। এসব পণ্যে প্লাক ও দাগ পরিষ্কারের পাশাপাশি জিহ্বা পরিষ্কারের সুবিধাও রয়েছে। ফিলিপসের সোনিকেয়ার ডায়মন্ডক্লিনের মতো মডেলের দাম ৬০০ পাউন্ড পর্যন্ত।
খবর দ্য গার্ডিয়ান