পলিক্রাইসিস

বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন ঝুঁকি ও আধুনিক সমাধান

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও স্বর্ণের চড়া দাম বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগরের তলদেশে ইন্টারনেট কেবল কাটা পড়ার মতো কারিগরি বিপর্যয়। গত বছর এ কারণে আন্তঃমহাদেশীয় ইন্টারনেট সেবায় বড় বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি সফটওয়্যার আপডেটের ত্রুটির কারণে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার বিমান ও ব্যাংক সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনাগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্যের লজিস্টিকস ও আর্থিক লেনদেনে বড় ধরনের ক্ষতি করছে।

বর্তমান বিশ্বে পলিক্রাইসিস বা বহুমুখী সংকট স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহামারী, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ ও প্রযুক্তিগত বিপর্যয় এখন একই সময়ে নিয়মিত ঘটছে। দুবাইভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রোল্যান্ড বার্জারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সংকট কেবল সামাজিক সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ। তবে এ প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সাহসী বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধানের পথ দেখাচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো। খবর দ্য ন্যাশনাল।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও স্বর্ণের চড়া দাম বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগরের তলদেশে ইন্টারনেট কেবল কাটা পড়ার মতো কারিগরি বিপর্যয়। গত বছর এ কারণে আন্তঃমহাদেশীয় ইন্টারনেট সেবায় বড় বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি সফটওয়্যার আপডেটের ত্রুটির কারণে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার বিমান ও ব্যাংক সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনাগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্যের লজিস্টিকস ও আর্থিক লেনদেনে বড় ধরনের ক্ষতি করছে।

রোল্যান্ড বার্জারের পার্টনার মোহাম্মদ ইয়ামুত বলেন, ‘যখন অনেকগুলো সংকট একসঙ্গে দেখা দেয়, তখন এর প্রভাব হয় মারাত্মক। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের মতো সমস্যাগুলো মানুষের জীবনযাত্রার মানকে ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। এসব সংকটের কারণে দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের সক্ষমতাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

পলিক্রাইসিস মোকাবিলায় আবুধাবি, দুবাই, রিয়াদ ও দোহার মতো শহরগুলো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আইএমডি বিজনেস স্কুলের ফিন্যান্সের অধ্যাপক আরতুরো ব্রিস জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বিনিয়োগের ঝুঁকি নিচ্ছে। তিনি একে বিগ গ্যাম্বল বা বড় বাজি হিসেবে অভিহিত করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘দেশটি ২০১৭ সালেই বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছে। ইউরোপের দেশগুলো সাধারণত এ ধরনের বড় ঝুঁকি নিতে চায় না।’

প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক সমাধান তৈরিতেও বেশ এগিয়ে আছে অঞ্চলটি। আবুধাবি বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভূস্থানিক (জিওস্প্যাশিয়াল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বন্যার মতো পরিবেশগত ঝুঁকির ওপর নজর রাখছে। এতে দুর্যোগ আসার আগেই সতর্ক হওয়া যাচ্ছে এবং ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের রিয়াদে বড় বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে ডাটা অ্যানালিটিকস ব্যবহার করা হচ্ছে। দুবাইয়ের ‘২০৪০ আরবান মাস্টার প্ল্যান’-এর আওতায় চালকবিহীন যানবাহন ও স্মার্ট বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা (স্মার্ট গ্রিড) নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বহুমুখী সংকটের ঝুঁকি কমিয়ে ব্যবসার পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে।

প্রথাগত সংকট ব্যবস্থাপনা এখন আর কার্যকর নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক আরতুরো ব্রিস বলেন, ‘ভবিষ্যৎ এখন আর আগের মতো অনুমানযোগ্য নয়। তাই সুনির্দিষ্ট কোনো ঝুঁকি প্রতিরোধের চেয়ে এমন একটি ব্যবস্থা বা আইন দরকার যা যেকোনো অজানা পরিস্থিতিতে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে। পলিক্রাইসিসের এ যুগে যারা প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগ করবে এবং পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে পারবে, তারাই বৈশ্বিক বাণিজ্যে টিকে থাকবে।’

আরও