চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল রাশিয়া। তবে চলতি মাসে উত্তোলনে তুলনামূলক সর্বোচ্চ পুনরুদ্ধার ঘটবে বলে আশাবাদী দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে নোভাক বলেন, মার্চ ও এপ্রিলে আমাদের উত্তোলন কমে গিয়েছিল। মে মাসে কিছু ক্ষেত্রে উত্তোলনে পুনরুদ্ধার লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে চলতি মাসে উত্তোলন বড় পরিসরে বাড়বে।
তিনি আরো বলেন, ক্রমবর্ধমান জাহাজীকরণ ব্যয়, লজিস্টিকস চেইনে পরিবর্তন ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই মাস উত্তোলনে ব্যাপক নিম্নমুখিতা দেখা দেয়। তবে আমরা এ পরিস্থিতিতে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করি, জুনে আমরা আগের তুলনায় সর্বোচ্চ পুনরুদ্ধার দেখতে পাব।
এদিকে সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি ৯০ শতাংশ বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হবে বলেও সতর্ক করেন নোভাক।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া নিজেদের তেলের জন্য নতুন ক্রেতা খুঁজতে শুরু করেছে বলেও জানান নোভাক। তিনি বলেন, বাজার ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং এ ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী। নতুন পরিবহন ও লজিস্টিক্যাল চেইন তৈরি করা হবে। নতুন সম্পর্ক ও বাজার গড়ে উঠবে। রাশিয়াসহ ওপেকের মিত্র জোট ওপেক প্লাস জুলাই ও আগস্ট থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। আগের তুলনায় বেশি মাত্রায় জোটের সদস্যরা উত্তোলন বাড়াবে। প্রতি মাসে ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
রাশিয়ার উত্তোলন বৃদ্ধির দাবি সত্ত্বেও দেশটিকে রফতানিতে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হবে। ইউরোপের বাইরে এমনকি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয়ও তেল সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়েছে। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার কারণেই রফতানিতে একঘরে হয়ে পড়েছে দেশটি। বর্তমানে রাশিয়া চীন ও ভারতে জ্বালানি তেল রফতানি বাড়াচ্ছে।
চলতি মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস বিক্রি থেকে অতিরিক্ত ৬৩৭ কোটি ডলারেরও বেশি আয়ের সম্ভাবনা দেখছে রাশিয়া। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ার সুফল ভোগ করছে রাশিয়া। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য রফতানি আয় ব্যাহত করার লক্ষ্য নিয়েই দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু তাতে সুফল মেলেনি। কারণ মস্কো এখনো এ খাত থেকে অতিরিক্ত ডলার আয় করে নিচ্ছে, যা দেশটিতে যুদ্ধের ব্যয় বহনে সহায়তা করছে।