বাংলাদেশের শিল্প খাতের আধুনিকায়ন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি, দক্ষতা ও মূলধন ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে চায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ (এসসিবি)। এ লক্ষ্যে এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের (ইউকেইএফ) সঙ্গে যৌথভাবে রোববার ঢাকায় একটি উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এসসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য করিডর আরো গতিশীল করা এবং বাংলাদেশের রফতানি বহুমুখীকরণ ত্বরান্বিত করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে এসসিবি, ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন, ইউকেইএফ এবং স্থানীয় ওষুধ শিল্প, হালকা প্রকৌশল, কৃষি ব্যবসা, সি ফুড ও ফুটওয়্যারসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের বাজারের বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বাণিজ্য অর্থায়ন ও এক্সপোর্ট ক্রেডিটের সম্ভাব্য ভূমিকা উঠে আসে। বিশেষ করে ইউকেইএফ সমর্থিত অর্থায়নের বাস্তব প্রয়োগ, এক্সপোর্ট ক্রেডিট সুবিধার কাঠামো এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্ভাব্য প্রকল্পের তালিকা তৈরির বিষয়ে মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
এসসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘দেশ যখন উন্নয়নের নতুন ধাপে অগ্রসর হচ্ছে, তখন যুক্তরাজ্যের মতো কৌশলগত অংশীদারের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ।’
এ সময় তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বের সঙ্গে এবং বিশ্বকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘ইউকেইএফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার মাধ্যমে আমাদের গ্রাহকদের জন্য বিশ্বমানের যুক্তরাজ্যভিত্তিক দক্ষতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ নিয়ে আসতে পারব।’
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সরবরাহকারী, প্রযুক্তি ও মূলধনের সংযোগ ঘটাতে কাজ করবে এসসিবি। এর মাধ্যমে রফতানি বহুমুখীকরণ, যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা গ্রহণ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশে ১২০ বছরেরও বেশি সময়ের উপস্থিতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউকেইএফের প্রধান অংশীদার হতে চায় এসসিবি।
কৌশলগত এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি, রফতানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে ব্যাংকটির।