এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম স্থিতিশীল ছিল। চীনসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় চন্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে বাজারে পণ্যটির বেচাকেনা কম হয়েছে। এছাড়া আমদানিকারক দেশগুলোয় পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় নতুন করে এলএনজির চাহিদা খুব একটা বাড়েনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাজারে পণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়ার একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় এপ্রিলের সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ (১০ লাখ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১০ ডলার ৬০ সেন্ট। আগের সপ্তাহে এ দাম ছিল ১০ ডলার ৬৫ সেন্ট। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রিন্সিপাল ইনসাইট অ্যানালিস্ট গো কাতায়ামা বলেন, ‘বর্তমানে এলএনজির বাজারের মৌলিক ভিত্তিগুলো বেশ শিথিল। তবে নিকটবর্তী মেয়াদে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন দাম বাড়ার প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চান্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে বাজারে এলএনজি বেচাকেনার পরিমাণ কম ছিল। এছাড়া উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় গ্যাসের মজুদ পর্যাপ্ত থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে পণ্য কেনার তাড়াহুড়ো দেখা যায়নি। তবে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এলএনজির দাম যতটা কমার কথা ছিল, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে তা ততটা কমেনি। অবশ্য সামনের মাসগুলোর চুক্তিতে বাজারের পরিস্থিতি কিছুটা নিম্নমুখী থাকতে পারে।’
জাপান ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এতে ঘর উষ্ণ রাখার জন্য গ্যাসের চাহিদা কমবে। এছাড়া জাপানের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬ নম্বর রিঅ্যাক্টরটি পরীক্ষামূলকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এ কারণে এলএনজির ব্যবহার কমবে।
কাতায়ামা মনে করেন, যদি দাম কমার সুযোগে নতুন কোনো বড় ক্রেতা বাজারে না আসে, তবে এশিয়ার স্পট এলএনজির দাম আরো কমতে পারে।
ইউরোপের বাজারেও গত সপ্তাহে এলএনজির দামে কিছুটা প্রভাব লক্ষ করা গেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে এপ্রিলে সরবরাহের জন্য এলএনজির গড় মূল্য ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ ডলার ২৬ সেন্ট। এটি নেদারল্যান্ডসের টিটিএফ হাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের চুক্তিমূল্যের চেয়ে ৯৯ সেন্ট কম। অন্যদিকে আর্গাস এ দাম নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৪৪ সেন্ট এবং স্পার্ক কমোডিটিজ মার্চের জন্য দাম ধরেছে ১০ ডলার ৩৭ সেন্ট।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির আটলান্টিক এলএনজি বিভাগের ব্যবস্থাপক অ্যালি ব্লেকওয়ে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ইউরোপের ভূগর্ভস্থ গ্যাস মজুদের ওপর ক্রমাগত চাপের কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়ার খবরে বিশ্ব পণ্যবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।’
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এ হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবহন করা হয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক দেশ কাতারের পণ্যবাহী জাহাজগুলোও এ রুট ব্যবহার করে যাতায়াত করে।
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজি পরিবহন ব্যয় বেড়ে দৈনিক ৩৩ হাজার ৫০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে পরিবহন ব্যয় কমে দৈনিক ২৭ হাজার ৫০০ ডলারে নেমে এসেছে।