কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো সংজ্ঞা ছাড়াই শ্রেণীকৃত ঋণের সঙ্গে পুনঃতফসিলকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ যোগ করে ডিস্ট্রেসড ঋণের হিসাব করায় ব্যাংক খাত সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (ডিসিপি) থেকে গতকাল পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। এতে আরো বলা হয়, পুনঃতফসিলকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণকে ডিস্ট্রেসড বা দুর্দশাগ্রস্ত বলার কোনো সুযোগ নেই।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট (এফএসআর) ২০২৫’ প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে অন্যান্য তথ্যের পাশাপাশি খেলাপি ঋণ, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ ও অবলোপনকৃত ঋণসংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এফএসআর ২০২৫-এর তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী ব্যাংক খাতের ডিস্ট্রেসড ঋণের হার ৪৫, ৫৯ কিংবা ৬০ শতাংশ বলে প্রকাশ করেছে। তবে ব্যাংকিং নীতি প্রণয়নকারী আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা ডিস্ট্রেসড ঋণের স্বীকৃত সংজ্ঞা নির্ধারণ করেনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে যেসব ঋণ থেকে কোনো আয় আসে না অথবা যেসব ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করা হয় না, সেগুলোকে ডিস্ট্রেসড ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু পুনঃতফসিলকৃত অশ্রেণীকৃত ঋণের ক্ষেত্রে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা হয় বলে সেসব ঋণকে ডিস্ট্রেসড ঋণ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুযায়ী অবলোপনকৃত ঋণ ব্যাংকের স্থিতিপত্রের অংশ নয়। ফলে এসব ঋণও ডিস্ট্রেসড ঋণের আওতায় ফেলার সুযোগ নেই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতে নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।