গতকাল এক চিঠির মাধ্যমে ব্যাংকটিকে শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে গত ৩০ জুন মূলধন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ শেয়ার ইস্যুর ঘোষণা দিয়েছিল রূপালী ব্যাংক।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুকূলে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিবের প্রতিনিধিত্বে জিওবি ইকুইটির বিপরীতে মোট ৪৫ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ২৫৩টি সাধারণ শেয়ার ইস্যু করবে রূপালী ব্যাংক। প্রতিটি শেয়ারের ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ টাকা। এর মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্য ও ৫ টাকা প্রিমিয়াম হিসেবে ধরা হয়েছে। নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৬৭৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে রূপালী ব্যাংক।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট লোকসান হয়েছে ৮ টাকা ১২ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ১৩ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৫ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি রূপালী ব্যাংক। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ২ পয়সায়।
২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি রূপালী ব্যাংকের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ২৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ২৮ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৯৭ পয়সায়।
২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে রূপালী ব্যাংকের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত), আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ১৪ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
রূপালী ব্যাংকের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘বিবিবি প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৩’। ব্যাংকটির ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড (এনসিআর)।
১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি, পরিশোধিত মূলধন ৪৮৭ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার ও রিজার্ভে রয়েছে ৫৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৮ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৫। এর ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশই রয়েছে সরকারের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ১৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।