২০২৭ সাল

বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস ডব্লিউএসএর

চীনে ২০২৭ সালে ইস্পাতের চাহিদা কমার হার ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আবাসন খাতের সংকোচন ধীর হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাপী ২০২৭ সালে ইস্পাতের চাহিদা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউএসএ)। তবে এ বছর বিশ্ববাজারে চাহিদা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

সংস্থাটির সম্প্রতি প্রকাশিত ‘শর্ট রেঞ্জ আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বে ইস্পাতের চাহিদা থাকবে ১৭২ কোটি টন। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৭৫ কোটি টনে। ইস্পাতের বাজারে প্রত্যাশিত পুনরুদ্ধারের গতি আগের ধারণার তুলনায় বেশ মন্থর হলেও অঞ্চলভেদে এতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি জোরালো হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

ডব্লিউএসএর অর্থনীতি কমিটির চেয়ারম্যান আলফোনসো হিদালগো দে কালসেরাদা বলেন, ‘ইস্পাতের বাজারে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে হচ্ছে। দ্রুত প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে বাজারে ধীরগতির উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছর চীনের বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে ইস্পাতের চাহিদা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে এ প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ইস্পাতের বাজার চীনে চলতি বছর চাহিদা ২ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। দেশটির আবাসন খাতে বিনিয়োগে মন্দা ও অবকাঠামো খাতে দুর্বল ব্যয় এর প্রধান কারণ।

চীনে ২০২৭ সালে ইস্পাতের চাহিদা কমার হার ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আবাসন খাতের সংকোচন ধীর হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

চীন বাদে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ইস্পাতের চাহিদা এ বছর ১ দশমিক ৯ এবং আগামী বছর ৫ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে।

বিশ্বের বড় অর্থনীতির বাজারগুলোর মধ্যে ভারতেই ইস্পাতের চাহিদা সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটিতে চলতি অর্থবছর চাহিদা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১৭ কোটি ২৪ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। আগামী অর্থবছর তা আরো ৮ শতাংশ বেড়ে ১৮ কোটি ৬২ লাখ টন হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোয় আঞ্চলিক সংঘাতে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে অঞ্চলগুলোয় এ বছর ইস্পাতের চাহিদা কমতে পারে প্রায় ১১ শতাংশ। তবে আগামী বছর তা ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘আসিয়ান-৫’ ভুক্ত দেশগুলোয় ২০২৬ সালে ইস্পাতের চাহিদা ৫ দশমিক ২ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে। এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে ভিয়েতনামে নির্মাণ খাতের শক্তিশালী কার্যক্রম।

উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয় ২০২৬ ও ২০২৭ সালে শিল্প ধাতুটির চাহিদা যথাক্রমে ১ ও ২ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চাহিদা এ বছর দশমিক ৩ শতাংশ কমলেও আগামী বছর ৩ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায়ও আগামী বছর ইস্পাতের চাহিদা বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

আরও