মুদ্রা দুর্বল হওয়ায় একই সঙ্গে বেড়েছে জাপানের পণ্য আমদানি ও রফতানি আয়। তবে রফতানির তুলনায় আমদানি খরচ বেশি বেড়েছে। এতে জুনে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়েছে দেশটি। সম্প্রতি জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় বাণিজ্য-সংক্রান্ত এ তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর জাপান টুডে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুনে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৬৯০ কোটি ইয়েন বা প্রায় ২৫০ কোটি ডলার। এক বছর আগেও ১২ হাজার কোটি ইয়েনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, জুনে জাপানের পণ্য রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ১০ লাখ ৯০ হাজার কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের তীব্র চাহিদার কারণে দেশটির রফতানি আয় বেড়েছে। তবে একই সময়ে আমদানি ব্যয় আরো দ্রুতগতিতে বেড়েছে। জুনে জাপানের পণ্য আমদানি খরচ ২৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ইয়েনে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ ডলারে লেনদেন ইয়েনের দরপতন প্রধান কারণ। এক বছর আগে যেখানে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ১৪০ ইয়েনের ঘরে, তা বেড়ে সম্প্রতি ১৬৩ ইয়েন ছাড়িয়েছে। ফলে ডলারে কেনা পণ্য ইয়েনের হিসাবে অনেক বেশি দামি হয়ে পড়েছে।
পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সম্পদের অভাব থাকা জাপানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। প্রয়োজনের প্রায় সব তেলই আমদানি করতে হয় দেশটিকে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকটের কারণে সম্প্রতি জাপান বিকল্প উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি প্রায় পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বছরের শুরুতে প্রতি ব্যারেল ৬০ থেকে লাফিয়ে ১১৪ ডলারে ওঠে, যা পরে ৯০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান নেয়।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) জাপানের মোট রফতানি ১৪ শতাংশ বেড়ে ৬০ লাখ ৬০ হাজার কোটি ইয়েন এবং আমদানি ১১ শতাংশ বেড়ে ৬১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। ফলে বছরের প্রথমার্ধেই দেশটি প্রায় ১ লাখ কোটি ইয়েনের বিপুল বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে।