চাঙ্গা হয়ে উঠছে ইউরোপের অস্ত্র শিল্প

ইউরোপের অস্ত্র কারখানাগুলোয় ক্রয়াদেশ নতুন উচ্চতায় উঠেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রমরমা হয়ে উঠছে অস্ত্রের বাজার।

ইউরোপের অস্ত্র কারখানাগুলোয় ক্রয়াদেশ নতুন উচ্চতায় উঠেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রমরমা হয়ে উঠছে অস্ত্রের বাজার। স্নায়ুযুদ্ধের পর ইউরোপের অস্ত্র ক্রয়প্রবণতা কমে যায়। পাশাপাশি কমতে থাকে প্রতিরক্ষা বাজেট ও সমরাস্ত্রের উৎপাদন। তবে সম্প্রতি সে শিল্প ফের গতি পেয়েছে। অনেক দেশের সরকারই সমরাস্ত্র কারখানাগুলোয় কার্যাদেশ পাঠাচ্ছে। দি ইকোনমিস্ট। 

জার্মান অস্ত্র কোম্পানি রাইনমেটাল ১০ আগস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে ১২ শতাংশ। চলতি বছর বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ২০-৩০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। গত বছর বিশ্বের সামগ্রিক সামরিক বাজেট ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হয়। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোয় বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। ফিনল্যান্ডের বেড়েছে ৩৬ শতাংশ, লিথুয়ানিয়ার ২৭ শতাংশ, সুইডেনের ১২ শতাংশ ও পোল্যান্ডের ১১ শতাংশ। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানিও এক্ষেত্রে তৎপর হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জার্মান সরকার সামরিক বাজেট বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। 

মিসাইল নির্মাণকারী কোম্পানি এমবিডিএর ব্রিটিশ শাখা পোল্যান্ডের কাছ থেকে ২৪০ কোটি ডলারের কার্যাদেশ পেয়েছে। জুনে ফরাসি অস্ত্র কোম্পানি সাফরান গ্রিক আর্মির কাছে বেশ কয়েকটি কৌশলী ড্রোন বিক্রি করেছে। রাইনমেটাল প্রায় ৬০০ কোটি ইউরোর বিনিময়ে জার্মান ও ডাচ সরকারকে তিন হাজার উড্ডয়ন সক্ষম যান সরবরাহ করবে। 

ইউরোপীয় সরকার এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা কেনাকাটা আরো নির্বিঘ্ন করার ব্যবস্থা নিয়েছে। নভেম্বরে স্পেন ও জার্মানি ইউরোপের জন্য যুদ্ধবিমান তৈরিতে চুক্তি করেছে। ইউরোপের প্রতিরক্ষাবিষয়ক শিল্পের মধ্যে সমন্বয় এলে পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে। অস্ত্র কোম্পানিগুলো এত দিন একভাবে চললেও ভবিষ্যতে তারা উচ্চ মুনাফা করবে বলে মনে করছে।

আরও