ব্রিটিশ গায়িকা ও সাবেক স্পাইস গার্ল ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের ফ্যাশন ও সৌন্দর্যপণ্যের ব্যবসা অবশেষে মুনাফার মুখ দেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি চালুর ১৮ বছর পর প্রথমবারের মতো পরিচালন মুনাফা করেছে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৭৩ লাখ পাউন্ড। খবর বিবিসি।
ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম হোল্ডিংস লিমিটেডের নেতৃত্বে রয়েছেন ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর। কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখেছে ফ্যাশন ব্যবসা। একই সময় সৌন্দর্যপণ্যও ভালো সাড়া পেয়েছে।
ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের স্কিনকেয়ার পণ্য ‘ফাউন্ডেশন ড্রপস’ সম্প্রতি ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পণ্যটির জন্য ২৫ হাজার মানুষের অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি হয়েছিল। এর জনপ্রিয়তায় কোম্পানির স্কিনকেয়ার ব্যবসার আকার দ্বিগুণ হয়েছে।
গত বছর ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামকে নিয়ে নেটফ্লিক্সে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ হয়। এতে ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা ও ব্যবসাটিকে লাভজনক করার জন্য তার দীর্ঘ প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি প্রকাশের পর কোম্পানির বিক্রিও বেড়েছে। বিশেষ করে ডেনিম ও জার্সি পণ্যে বিক্রির গতি বাড়ে বলে কোম্পানির হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। ব্যবসা শুরুর পর ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামকে দীর্ঘ সময় লোকসানের মুখে থাকতে হয়েছে। একপর্যায়ে কোম্পানিটি কোটি কোটি পাউন্ড লোকসানে পড়ে যায়। নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্রে সে আর্থিক সংকটের কথাও উঠে আসে।
সংকটের সময় তার স্বামী ও সাবেক ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম ব্যবসায় আর্থিকভাবে সহায়তা করেন। ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে বিশ্বাস না করলে এখন আর ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যেত না।’
পরবর্তী সময় ব্যবসাটিকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১৭ সালে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এনইও ইনভেস্টমেন্ট পার্টনার্সের কাছে কোম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে ৩ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ সংগ্রহ করেন ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম। এরপর ব্যবসায় পুনর্গঠন শুরু হয়।
পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম আগে ব্যবসায় কার্যক্রমে বড় ধরনের অপচয়ের কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি জানান, অফিসের গাছপালার পেছনেও বছরে প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ড খরচ হতো। এখন সে অপচয় কমিয়ে ব্যবসার পরিচালন কাঠামো আরো কার্যকর করা হয়েছে।
কোম্পানির চেয়ারম্যান ডেভিড বেলহাসেন বলেন, ‘ফ্যাশন ও বিউটি এ দুই ব্যবসা এখন প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে লাভজনক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রতিষ্ঠানটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে।’