যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কারোপ নিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশ, চীনসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে শিথিলতার অভিযোগ এনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের ঘোষিত এ সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক রফতানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

শুক্রবার মধ্যরাতে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের ১০ শতাংশ সাময়িক বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন এ আদেশ কার্যকর হয়। নতুন নিয়মে পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যই এ সিদ্ধান্তের আওতায় আসছে। তবে মার্কিন বাজারের চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার ও নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্যকে এ অতিরিক্ত শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের জরুরি শুল্কনীতি বাতিল করে দেয়। ওই আইনি ধাক্কার পর বিকল্প পথ হিসেবে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ ব্যবহার করে এ শুল্ক আরোপ করল ওয়াশিংটন। এ আইনের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে একটি স্থায়ী শুল্ক কাঠামো বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে আইনি ঝুঁকি এড়ানোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।

নতুন এ বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে বিভিন্ন দেশের ওপর। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কানাডা ও মেক্সিকোর মতো দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপান, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে এ হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া চীন, ভিয়েতনামসহ বাকি ৩৮টি দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার জানান, বাজারে অসাধু বাণিজ্যিক চর্চা বন্ধ করা এবং বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার সুনিশ্চিত করতেই এ কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও নরওয়ের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা এ শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও ইইউ জানিয়েছে, আগের চুক্তি অনুযায়ী তাদের ওপর শুল্কসীমা বহাল থাকায় সার্বিক বাণিজ্যে বড় আঘাত আসবে না।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাজারে পোশাক ও নানা ধরনের শিল্পপণ্য রফতানি করা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এ শুল্ক নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ফলে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা কমবে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হবে।

আরও