নয় মাস ধরে বন্ধ রফতানি

সুগন্ধি চালের আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর শঙ্কা

দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২২ সালের জুলাইয়ে সুগন্ধি চাল (চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা) রফতানি নিষিদ্ধ করা হয়।

দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২২ সালের জুলাইয়ে সুগন্ধি চাল (চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা) রফতানি নিষিদ্ধ করা হয়। তারপর দীর্ঘ নয় মাস অতিবাহিত হলেও রফতানি নিষেধাজ্ঞা কাটেনি। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজার হারালে তা আবার ফিরে পাওয়ার সুযোগ কম বলে মনে করছেন রফতানিসংশ্লিষ্টরা। 

তারা জানান, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সুগন্ধি চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে তো বটেই, বিদেশী ভোক্তাদের কাছেও চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা চাল জনপ্রিয়। প্রায় সারা বছরই বিদেশের বাজারে এ চালের চাহিদা থাকে। রমজান মাস, ঈদুল আজহাসহ উৎসবের মৌসুমগুলোয় চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরে প্রায় ১৮-২০ হাজার টন সুগন্ধি চাল রফতানি করে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে আয় হয় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। সুগন্ধি চাল দেশের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যতালিকার মধ্যে পড়ে না। ফলে এ চালের উদ্ধৃতের পরিমাণ ব্যাপক। সুগন্ধি চাল রফতানি দেশের খাদ্য ঘাটতিতে কোনোরকম নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে না। 
বর্তমানে দেশ থেকে সুগন্ধি চাল রফতানি বন্ধ থাকায় সুগন্ধি চালের আন্তর্জাতিক বাজার প্রতিযোগী দেশগুলোর দখলে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রফতানিকারকরা। তাদের দাবি, এ বাজার ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। দেশে সুগন্ধি চালের ঘাটতি না থাকায় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের এ চাল রফতানির সুযোগ দেয়া উচিত। এর ফলে বিদেশে দেশীয় চালের বাজার যেমন অক্ষুণ্ন থাকবে, তেমনি অসাধু রফতানিকারকদের অবৈধ ও নিম্নমানের চাল রফতানিও রোধ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ইসহাক হোসেন সুইট বণিক বার্তাকে বলেন, জুলাইয়ের পর চাল রফতানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর আর চালু করা হয়নি। ভারতের একটা চাল আছে, তারা যদি বাজারটা দখল করে ফেলে, তাহলে এ বাজার আর আমাদের হবে না। 
তিনি বলেন, ‘‌বাসমতী চালের বাজার এখন পৃথিবীর বড় বাজারগুলোর একটি। সরকার আমাদেরকে নানা সময়ে পোলাওর চাল উৎপাদনের কথা বলেছে। বিদেশের মাটিতে আমরা চিকন চালের বাজার তৈরি করেছি। এর ভোক্তা হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশীরা। ক্রমান্বয়ে বিদেশীরাও এ চালের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। আমরা এটা যে মূল্যে রফতানি করি, তাতে এক টনের বিপরীতে তিন টন চাল আমদানি করতে পারব।’ 
জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌পুনরায় রফতানির অনুমতি দেয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

আরও