এর পরই গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল বহনকারী এশিয়াগামী দুটি তেলবাহী জাহাজ লোহিত সাগর থেকে ফিরে গেছে বলে দাবি ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রাখলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে হুথিদের প্রতি আহ্বান জানায় তেহরান। লোহিত সাগরের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত এ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের প্রায় ৭ শতাংশ তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
পাশাপাশি গত বুধবার লোহিত সাগরে সৌদির দুটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে হুথিরা। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালি কার্যত অচল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের আরোপ করা নৌ-অবরোধ লঙ্ঘন করেছিল জাহাজ দুটি।
হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে চাপের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববাণিজ্য। নতুন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে।
বাব এল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। জলপথটি দিয়ে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তেল, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন হয়। ফলে পথটি বন্ধ হয়ে গেলে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ বিকল্প পথে চলতে হবে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটিই বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবের মতো দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে একসঙ্গে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পণ্য পরিবহন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ওপরও পড়তে পারে। আল জাজিরা অবলম্বনে