টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার টন সরিষা পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। জানা গেছে, আবাদি সরিষায় এরই মধ্যে ফুল ধরেছে। এ ফুলকে কাজে লাগিয়ে চলতি মৌসুমে সাড়ে ৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন জেলার কৃষি কর্মকর্তারা। স্বল্প খরচ, কম পরিশ্রম ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় টাঙ্গাইলে বছর বছর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সরিষা চাষ।
স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায় বলে আমন ও বোরো ধান চাষের মধ্যবর্তী সময়ে টাঙ্গাইলে সরিষা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ধান চাষ ব্যাহত না করে অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরিষা চাষে বাড়তি অর্থ আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন কৃষক। জানা যায়, সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, মির্জাপুর, বাসাইল, দেলদুয়ার, মধুপুর, গোপালপুরের বিভিন্ন এলাকায় তেলবীজটির চাষ বছর বছর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ জমি এখন সরিষার হলদে ফুলে ছেয়ে গেছে। ফুল কাজে লাগিয়ে মধু চাষেও আগ্রহী হয়েছেন অনেকে। সরিষা খেতের পাশেই জেলায় প্রায় ২০ হাজার মৌ বক্স স্থাপন হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধু সংগ্রহের আশা করা হচ্ছে।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, জেলায় মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। গত মৌসুমে কৃষি বিভাগের ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২০২২ সালে মোট ৫৮ হাজার ১২০ হেক্টর জমি সরিষা চাষের আওতায় এসেছিল। গত বছরের চেয়ে চলতি বছর ২২ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষের কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এ বছর জেলায় মোট ১ লাখ ১২ হাজার টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এরই মধ্যে জেলার ৩৫ হাজার কৃষককে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সরিষা ও মধু চাষের পাশাপাশি জেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে সূর্যমুখী চাষ। চলতি মৌসুমে জেলায় ১৫৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করা হয়েছে।
কৃষকরা জানান, আমন ধান ঘরে তোলার পর বোরো রোপণের আগে তিন মাসের মতো সময় পান তারা। আর সরিষা চাষেও ৮০-৯০ দিন সময় প্রয়োজন। তাই মধ্যবর্তী সময়ে তারা সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
জেলায় সরিষার আবাদ বেড়ে যাওয়ায় মৌচাষীরাও টাঙ্গাইলে আসছেন মধু সংগ্রহ করতে। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার সোনাতলা এলাকা থেকে মৌচাষী খলিল গাজী মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন টাঙ্গাইলের গালা ইউনিয়নে। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমি প্রতি বছরই শীতে এখানে মধু সংগ্রহ করতে আসি। নভেম্বর থেকে টানা তিন-চার মাস মধু সংগ্রহ করা যায়। এ সময় তিন-চার টন মধু পাওয়া যাবে।’
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আহসানুল বাসার বলেন, ‘এ বছর ২০ হাজার হেক্টর সরিষা জমির বৃদ্ধির পেছনে আমাদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভূমিকা ছিল। ব্লক পর্যায়ে ডোর টু ডোর আমরা কৃষকদের তালিকা করেছি। তাদের উচ্চফলনশীল বারি ১৪, বারি ১৫, বীণা ১১, বীণা ৯, বীণা ৪ জাতের সরিষাবীজ দিয়েছি।
এবার ১ লাখ ১২ হাজার টন টাঙ্গাইলে থেকে সরিষা পাব বলে আশা করছি। পাশাপাশি ২০ হাজার মৌ বক্স থেকে তিন মাসে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধু পাব বলে আশা করছি। দেশের উদ্ভিজ্জ তেলের চাহিদা মেটাতে টাঙ্গাইলের সরিষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বছর বছর সরিষা তেলে টাঙ্গাইলের অবদান বাড়ছে। ভোজ্যতেল আমদানির চাপ কমাতে সাহায্য করছেন এখানকার কৃষক। এতে আমাদের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে।’