কভিড-১৯ মহামারীজনিত নিষেধাজ্ঞা শেষে ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ। এর মাধ্যমে উড়োজাহাজ পরিবহন খাতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে উড়োজাহাজ নির্মাণও বাড়িয়ে দিচ্ছে এয়ারবাস। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত এ৩২০ জেটের উৎপাদন প্রাক-মহামারীর পর্যায়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এ লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে বিশ্বের বৃহত্তম উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। খবর ব্লুমবার্গ।
গতকাল ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সরু বডির এ৩২০ উড়োজাহাজের উৎপাদন প্রতি মাসে ৬৪ ইউনিটে উন্নীত করবে। সংখ্যাটি পরের বছরের প্রথম দিকে প্রতি মাসে ৭০ এবং ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি মাসে ৭৫ ইউনিটে উন্নীত করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
এ বিবৃতিতে এয়ারবাস ইঞ্জিন, আসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব কার্যক্রমে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। এয়ারবাস ও এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ তৈরিতে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের কার্যক্রম বাড়াতে ১০ কোটি বা তারও বেশি অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা রাখে।
এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গিলিয়াম ফিউরি এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের সরবরাহকারীদের দেয়া এ বার্তা পুরো শিল্পের বাস্তুতন্ত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানায়। এতে বাজারে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা যেন প্রস্তুতি নিতে পারে।
এয়ারবাসের এ বার্তা মহামারী কাটিয়ে উড়োজাহাজ খাতে কত দ্রুত ভ্রমণ পুনরুদ্ধার হবে, তা নিয়েও পূর্বাভাস দিয়েছে। স্বল্পমেয়াদে ঝুঁকি সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে টিকাদান কার্যক্রম বিস্তৃত হওয়ায় উড়োজাহাজ খাতের দীর্ঘমেয়াদে আশা দেখা যাচ্ছে। এ খাত নিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ২০২৩ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রাক-মহামারীর পর্যায়ে ফেরার পূর্বাভাস দিয়েছে।
মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেফারিজের বিশ্লেষক স্যান্ডি মরিস বলেন, আমরা মনে করি, একটু আগেভাগেই এমন আশাবাদ জানানো হয়েছে। তবে এয়ারবাস এ খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং তাদের পূর্বাভাস নিয়ে আশাবাদী হওয়া যায়। তবে আমি উদ্বিগ্ন যে আগামীতে মহামারীজনিত বাধা এবং কার্বন নির্গমন সম্পর্কিত চাপ বাড়বে। যাই হোক এয়ারবাস সে বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেবে।
এয়ারবাস চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এ৩২০ জেটের উৎপাদন প্রতি মাসে ৪৫ ইউনিটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে ৪৫টি এ মডেলের উড়োজাহাজ নির্মাণ করছে। এছাড়া ফ্রান্সভিত্তিক সংস্থাটি আগামী বছরের শুরুতে ছোট মডেল এ২২০ উড়োজাহাজের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রতি মাসে ছয়টিতে উন্নীত করবে। পাশাপাশি চলতি দশকের মাঝামাঝিতে এ জেটের উৎপাদন মাসে ১৪টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এগুলোর বাইরে ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে এ৩৩০ উড়োজাহাজের উৎপাদন মাসে দুটি এবং এ৩৫০ উড়োজাহাজের উৎপাদন মাসে ছয়টিতে উন্নীত করা হবে।