বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ রফতানিকারক দেশ কাতার আকস্মিকভাবে এলএনজি রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স।
২০২৫ সালের তথ্যানুযায়ী, কাতার ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক দেশ। সম্প্রতি দেশটির রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় জাহাজ সংকট এবং অন্যান্য উৎপাদন কেন্দ্রের সক্ষমতা কম থাকায় দ্রুত বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে গ্যাসের উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রফতানিকারক দেশ। দেশটির হাতে বর্তমানে কিছু বাড়তি উৎপাদন সক্ষমতা থাকায় তারা এ পরিস্থিতির সুবিধা নিতে পারছে। মার্কিন রফতানিকারকরা ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে বাড়তি গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে ব্যাপক মুনাফা করার সুযোগ দেখছেন। যদিও কাতার যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করত, সেই ঘাটতি পূরণ করা যুক্তরাষ্ট্রের একার পক্ষে এখনই সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোও তাদের রফতানি সূচি পরিবর্তন করার কথা ভাবছে। উচ্চমূল্যের সুযোগ নিতে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে বেশি পরিমাণে গ্যাস পাঠানোর পরিকল্পনা করছে এসব দেশ। এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য এশিয়ার দেশগুলোর এলএনজি আমদানির আগাম চুক্তির মূল্য প্রতি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ১২ ডলার ৯৫ সেন্টে ঠেকেছে। এটি ২০২৫ সালের গড় মূল্যের চেয়ে ৫৩ শতাংশ বেশি।
একই অবস্থা ইউরোপেও। সেখানে ২০২৬ সালের জন্য গ্যাসের আগাম দাম ধরা হয়েছে ইউনিপ্রতি ১২ ডলার ৪১ সেন্ট, যা গত বছরের তুলনায় ৪৯ শতাংশ বেশি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহের এ ঘাটতি শুধু গ্যাসের দামই বাড়াচ্ছে না, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মোট রফতানির ৬৮ শতাংশ ইউরোপে গেলেও চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এশিয়ায় তাদের সরবরাহ ২০ শতাংশ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়াও তাদের অধিকাংশ গ্যাস এশিয়ায় রফতানি করছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বেশির ভাগ গ্যাস দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আবদ্ধ থাকায় তারা খোলা বাজারে খুব বেশি বাড়তি গ্যাস দিতে পারছে না। ফলে রাশিয়া ও নাইজেরিয়ার মতো অন্য রফতানিকারকদের জন্য বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে কাতার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এ অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।