জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও রফতানি আদেশ কমে যাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক শিল্প কঠিন সময় পার করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতারা। তাদের দাবি, গত তিন বছরে উচ্চ ব্যয় ও অর্ডার সংকটের কারণে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এসব সংকট থেকে উত্তরণে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো, ঋণের সুদ হার কমানো, রফতানি-পরবর্তী অর্থায়ন সুবিধা চালু, অবকাঠামো উন্নয়ন, এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতে নতুন চুক্তি করার উদ্যোগসহ একাধিক সুপারিশ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে তুলে ধরেছে বিজিএমইএ।
গতকাল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধি দল। সাক্ষাতে পোশাক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহসভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরীসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে জানানো হয়, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় দেশের অধিকাংশ পোশাক কারখানা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করতে পারছে। এতে সময়মতো রফতানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিজিএমইএ বলেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়েও রফতানি কমেছে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ। অন্যদিকে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগও স্থবির হয়ে পড়ছে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয় ও রফতানি আদেশের সংকট সামাল দিতে না পেরে গত তিন বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির মতে, এ পরিস্থিতি শুধু শিল্পের সক্ষমতাকেই নয়, কর্মসংস্থানকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
চলতি মূলধন ও বাণিজ্য ঋণের সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। পোশাক খাতের জন্য বিশেষায়িত ‘পোস্ট-শিপমেন্ট ফাইন্যান্সিং স্কিম’ চালুর প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) ও টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে (টিডিএফ) অর্থ বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে কাস্টমসের বন্ড অডিট প্রক্রিয়া জটিলতামুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক করার প্রস্তাব দিয়েছে বিজিএমইএ। পোশাক কারখানার কাঁচামাল দ্রুত সরবরাহের জন্য বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজিএমইএ নেতাদের বক্তব্য সহানুভূতির সঙ্গে শোনেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তৈরি পোশাক শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাময়িক প্রতিকূলতা কাটিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা জরুরি।’ এ লক্ষ্যে শিল্পের টেকসই বিকাশ ও সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।