অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক

ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ৬৮ কোটি টাকা

ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখার তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বন্দরটির রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা। এ সময়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত ৪৯৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৪২৭ কোটি ৩ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টমেটো আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা এবং বন্দরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখার তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বন্দরটির রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ২৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৩৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ঘাটতি থাকলেও বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণ হয়েছিল ২৭১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৭ কোটি ৩ লাখ টাকায়। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব বেড়েছে ১৫৫ কোটি ৮ লাখ টাকা।

ভোমরা কাস্টম হাউজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাস্টমস কমিশনার মুশফিকুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে ঘাটতির মূল কারণ টমেটো আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার।’

তিনি জানান, প্রতি বছর এ সময়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রীষ্মকালীন টমেটো আমদানি হয়, যা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাজস্ব আহরণ হয়ে থাকে। সম্প্রতি টমেটো আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে সরকার। ফলে স্থলবন্দরের রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে অর্থবছরের বাকি সময়ে মূল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলেও দাবি করেন এ কাস্টমস কমিশনার।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু হাসান অবশ্য রাজস্ব ঘাটতির পেছনে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা ও স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়াকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘ক্রেন স্থাপন ও বড় গুদামের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা ভারী পণ্য আমদানি করতে পারেন না।’ ভোমরা স্থলবন্দরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে বলেও দাবি করেন এ ব্যবসায়ী।

স্থলবন্দরের অসম ব্যবস্থাপনাও রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু নাসিম ফারুক। তিনি বলেন, ‘চালুর পর থেকেই এ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। পাশের বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য আমদানিতে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়, ভোমরায় তা মেলে না। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী অন্য স্থলবন্দরে চলে যাচ্ছেন, যা এ স্থলবন্দরের রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

এদিকে স্থলবন্দরটির অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ভোমরা বন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. মামুন কবির। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শেষ হয়েছে; শিগগিরই কাজ শুরু।’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি বাড়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও