সেভ দ্য চিলড্রেন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সেবাবঞ্চিত ১৫ লাখ শিশু

সংস্থাটির এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সংঘাতের ফলে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার খরচ হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ত্রাণসহায়তার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সামাজিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বালানি, পরিবহন, খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর পেছনে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সহায়তা বঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে তাদের অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক শিশু এ সহায়তার আওতায় আসছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

সংস্থাটির এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সংঘাতের ফলে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার খরচ হয়ে গেছে। সেভ দ্য চিলড্রেন উল্লেখ করেছে, এ বিশাল পরিমাণ অর্থ যদি অতিরিক্ত পরিবহনে ব্যয় করতে না হতো, তবে বিশ্বের আরো প্রায় ১৫ লাখ দুস্থ ও অসহায় সম্বলহীন শিশুকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেয়া সম্ভব হতো।

সেভ দ্য চিলড্রেনের গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ডিরেক্টর উইলেম জুইদেমা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের সার্বিক প্রভাব সম্পর্কে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে যখনই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে, তখনই ট্রাক ভাড়া, জাহাজের পণ্য পরিবহন এবং বিশ্বজুড়ে বিতরণ করা প্রতিটি চিকিৎসাসামগ্রীর বাক্সের খরচ বহু গুণ বেড়ে যায়। এর ফলে মানবিক সংস্থাগুলোকে বাধ্য হয়ে বেশি টাকা খরচ করে আগের চেয়ে কম সেবা দিতে হচ্ছে।’

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, ত্রাণ বিতরণে যে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে, তা দিয়ে আফগানিস্তানের মতো সংকটাপন্ন দেশে ৪৭টি স্বাস্থ্য ক্লিনিক টানা ছয় মাস চালু রাখা যেত। অথবা এ অর্থ দিয়ে সোমালিয়ায় ৩০ শয্যার পাঁচটি হাসপাতাল পুরো এক বছর অনায়াসে পরিচালনা করা সম্ভব হতো। আমদানিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশগুলোই জ্বালানি তেলের এ আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় দাম ৬০ ডলারের কাছাকাছি থাকার পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু এবং বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর দাম কিছুটা কমেছিল, কিন্তু নতুন করে সহিংসতা ও নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তা আবারো ৯০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

একই সঙ্গে খাদ্যদ্রব্যের দামও হু হু করে বাড়ছে, কারণ হরমুজ প্রণালি সার পরিবহনের জন্যও অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রধান দাতা সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকারি সাহায্য বাজেট উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ফলে সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বর্তমানে বিকল্প পরিবহন পথ এবং কম খরচে পণ্য সংগ্রহের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও