নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের মূল (প্যারেন্ট) কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান (অ্যাফিলিয়েট) এবং শেয়ারধারীদের কাছ থেকে সহজেই ঋণ নিতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গতকাল এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ উদ্যোগ বিদেশী মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তুলনামূলক কম খরচে বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সার্কুলারে বলা হয়, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড), হাই-টেক পার্কসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত অঞ্চলে পরিচালিত সম্পূর্ণ বিদেশী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে। পাশাপাশি এসব অঞ্চলের বাইরের উৎপাদন ও সেবা খাতের শতভাগ বিদেশী মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানও নতুন নীতিমালার আওতায় সহজে বৈদেশিক ঋণ নেয়ার সুযোগ পাবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এক বছরের কম মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই চলতি মূলধনের জন্য সুদমুক্ত বৈদেশিক ঋণ নিতে পারবে। এছাড়া কাঁচামাল সংগ্রহসহ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ অল ইন কস্ট হারে সুদযুক্ত ঋণ নেয়ার সুযোগ থাকবে। এসব ঋণ নির্ধারিত মেয়াদ শেষে এককালীন পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত ঋণের মেয়াদ নবায়ন (রোলওভার) করা যাবে।
সার্কুলারে আরো বলা হয়, এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মূলধনি ব্যয়, যেমন- যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও নির্মাণকাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নেয়া যাবে। এছাড়া সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত সুদযুক্ত ঋণ নেয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি বৈদেশিক ঋণও গ্রহণ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ঋণে সুদ প্রযোজ্য হলে বার্ষিক সর্বোচ্চ সুদের হার ৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
এছাড়া নতুন নীতিমালায় বকেয়া বৈদেশিক ঋণকে ইকুইটিতে (মূলধন) রূপান্তরের সুযোগও রাখা হয়েছে। এতে প্রয়োজনে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ঋণকে শেয়ার মূলধনে রূপান্তর করে প্রতিষ্ঠানের মূলধন কাঠামো আরো শক্তিশালী করতে পারবেন।