মার্চে জার্মানির মূল্যস্ফীতি ১৯৯০-এর একত্রীকরণ পরবর্তী সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। বুধবার প্রকাশিত উপাত্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতে। জার্মানির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ডেস্টাটিস জানায়, মার্চে ভোক্তামূল্য সূচক ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ। খবর এপি ও ডয়চে ভেলে।
এক বিবৃতিতে ডেস্টাটিস জানায়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে উচ্চহারের মূল্যস্ফীতিতে। সর্বশেষ এ ধরনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছিল ১৯৮১ সালে। ইরান-ইরাক যুদ্ধের ফলে পশ্চিম জার্মানিতে তখন মূল্যস্ফীতি বেড়ে গিয়েছিল। ১৯৯২ সালে একত্রিত জার্মানির মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
ইউরোপের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের মতো রাশিয়ার জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ওপর বড় আকারে নির্ভরশীল জার্মানি। বিভিন্ন কারখানা সচল রাখতে এবং ঘরবাড়িতে বিদ্যুত্ সংযোগ অব্যাহত রাখতে রুশ জ্বালানি সরবরাহের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এজন্য রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ইইউর অবরোধের বিরোধিতা করে আসছিল জার্মানি।
জার্মানির উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে সুদহার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি)। জ্বালানি মূল্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০২২ সালের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমিয়েছে জার্মানি।
ডেস্টাটিস বলছে, মার্চে ঘরে ব্যবহারের জ্বালানি ও মোটরগাড়ির জ্বালানির দাম ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
একদল স্বাধীন অর্থনীতিবিদ নিয়ে গঠিত সরকারের একটি প্যানেলের পূর্বাভাস, চলতি বছর জার্মানির জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। গত নভেম্বরে যেখানে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। গত বছর জার্মানির জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। করোনা পরবর্তীতে অর্থনৈতিক পুনরোদ্ধার প্রক্রিয়া চাঙ্গা হলেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিকে নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।