ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রিজার্ভ মূল্যবৃদ্ধি (চাল সংগ্রহের সর্বনিম্ন দাম) এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ধানের আবাদ বিলম্ব হওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা দেশটিতে চালের রফতানি মূল্য বাড়ার পেছনে প্রভাব ফেলেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও রয়টার্স।
ভারতে গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম টনপ্রতি ৩৪৮-৩৫২ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের সপ্তাহে যা ছিল টনপ্রতি ৩৪০-৩৪৫ ডলার। এ সময় দেশটিতে একই মানের আতপ চালের দাম টনপ্রতি ৩৫০-৩৫৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরভিত্তিক রফতানিকারক মুকেশ জৈন জানান, ওপেন মার্কেট সেলস স্কিমের (ওএমএসএস) আওতায় বিক্রি হওয়া চালের রিজার্ভ মূল্য ভারত সরকার বাড়িয়ে দেয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বেড়েছে। ফলে রফতানিকারকরাও খাদ্যশস্যটির দর বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। তবে ক্রেতারা এ বাড়তি দামে চাল কিনতে আগ্রহী নন। এ কারণে বর্তমানে রফতানি চাহিদা কম। আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় ৫ জুলাই পর্যন্ত কৃষকরা ৬০ লাখ হেক্টর জমিতে আমন (গ্রীষ্মকালীন) ধানের আবাদ করেছেন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬৯ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর।
থাইল্যান্ডে গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম কিছুটা কমে টনপ্রতি ৪৫০ ডলারে নেমেছে, যা আগে ছিল ৪৬৫ ডলার। ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, থাইল্যান্ডের চালের চাহিদা মূলত নিয়মিত ক্রেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া এখনো বড় কোনো ক্রয়াদেশ দেয়নি।
তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে চালের সরবরাহ ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। যুদ্ধের কারণে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আবাদি জমির পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারেন। এছাড়া জুলাই-আগস্টের ফসল সংগ্রহের মৌসুমের আবহাওয়া নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
ভিয়েতনামে গত বৃহস্পতিবার ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম টনপ্রতি ৪৪৫-৪৫০ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। হো চি মিন সিটিভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, শীর্ষ ক্রেতা দেশ ফিলিপাইনের চাহিদা এখনো বেশ শক্তিশালী। চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ফিলিপাইনের চাল আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভিয়েতনামের চাল রফতানি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৫০ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছেছে। তবে একই সময়ে রফতানি আয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২৩৮ কোটি ডলারে নেমেছে।