যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে রফতানি বৃদ্ধির এ প্রবণতা দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গত বছর মার্কিন এলএনজি রফতানিকারকরা দেশটির আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয় খাতের সম্মিলিত ব্যবহারের চেয়েও বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করেছেন। এ অতিরিক্ত ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে এবং জ্বালানি ব্যয় নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। খবর রয়টার্স।
ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে মার্কিন এলএনজি রফতানিকারকরা রেকর্ড ৫ হাজার বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করেছেন। যা একই সময়ে দেশটির আবাসিক খাতের ৪ হাজার বিসিএফ এবং বাণিজ্যিক খাতের ৩ হাজার বিসিএফ ব্যবহারের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের পর এলএনজি রফতানিকারকরাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাস ব্যবহারকারীতে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় রফতানির এ হার ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
রফতানি বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের আদর্শ মানদণ্ড হেনরি হাবের স্পট মূল্য গত বছর প্রায় ৬১ শতাংশ বেড়েছে। দেশটিতে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। ফলে গ্যাসের দাম বাড়ায় সরাসরি এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিলে। গত বছর দেশটিতে বিদ্যুতের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। আগে থেকেই আবাসন, খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে থাকা মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য এ বাড়তি বিদ্যুৎ বিল জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানির এ উচ্চমূল্য মার্কিন রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠছে। ভোটারদের অসন্তোষের মুখে এলএনজি রফতানিকারকরা এখন কঠোর সমালোচনার মুখে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ বনাম বাণিজ্যিক মুনাফা—এ দ্বন্দ্বে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, মুনাফার লোভে রফতানি বাড়াতে গিয়ে যদি অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, তবে তা মার্কিন জ্বালানি আধিপত্যের রূপকল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
ইআইএয়ের স্বল্পমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ উত্তর আমেরিকার এলএনজি রফতানি সক্ষমতা বর্তমানের ১১ দশমিক ৪ বিসিএফ থেকে বেড়ে ২৪ দশমিক ৩ বিসিএফ হতে পারে। অর্থাৎ সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হয়, তবে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ আরো সংকুচিত হবে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন গ্যাসের জয়জয়কার থাকলেও, নিজ দেশে ভোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।