কভিড-১৯ মহামারীর কারণে প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত। আগামী ডিসেম্বরে ফের বিদেশী পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করবে দেশটি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ভ্রমণ একটি শহরে সীমাবদ্ধ থাকবে। খবর বিবিসি।
চীনভিত্তিক অন্তত দুটি ট্যুর অপারেটর জানিয়েছে, শিগগিরই বিদেশী পর্যটকদের পার্বত্য শহর সামজিয়ন ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হবে।
২০২০ সালের শুরুর দিকে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় উত্তর কোরিয়া। এরপর গত বছরের মাঝামাঝিতে বিধিনিষেধ কমাতে শুরু করে। সীমান্ত বন্ধের ফলে দেশটিতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আমদানিও বন্ধ হয়ে যায়। এতে পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্য আরো সীমিত হয়ে পড়ে।
শেনিয়াংয়ের কেটিজি ট্যুরস গতকাল জানায়, এখন পর্যন্ত শুধু সামজিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটক প্রবেশ করতে দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই পিয়ংইয়ং ও অন্য শহরগুলোর দরজা খুলবে।
সামজিয়ন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে উঁচু পর্বত পাইকতুর পাদদেশে অবস্থিত, যা চীন-উত্তর কোরিয়া সীমান্তে বিস্তৃত। শীতকালীন ভ্রমণের জন্য অঞ্চলটি খুবই পরিচিত। সামজিয়নে বড় কিছু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর পুনর্নির্মাণ, সামরিক স্কি বেসকে রিসোর্টে রূপান্তর এবং বিদেশী পর্যটকদের জন্য নতুন রেলপথ ও হোটেল নির্মাণ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন অনুসারে, সামজিয়ন অঞ্চলকে ‘ফোর সিজন মাউন্টেনিয়াস ট্যুরিস্ট এরিয়া’ হিসেবে বিকাশ করা হচ্ছে। যেখানে উত্তর কোরিয়ার সংস্কৃতিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।
অবশ্য চলতি বছরের শুরুর দিকে রুশ পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। এখন দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়া যেকোনো দেশের পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমতি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে কোরিও ট্যুরস নামের একটি কোম্পানি। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজ নাগরিকদের উত্তর কোরিয়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।