কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি আরো ব্যাপকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত বুধবার প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক ‘কমিউনিটি অপারেশনস’ দলের ওপর এ ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়ে। খবর দি এজ মালয়েশিয়া।
ই-মেইলে পাঠানো বিবৃতিতে উবারের মুখপাত্র জানান, কোম্পানির মূল লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানের জটিল কার্যক্রমগুলো সহজ করা ও আধুনিক এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি কাস্টমার কেয়ারে যেসব কর্মী এতদিন বাড়ি থেকে বা রিমোটলি কাজ করছিলেন, তাদের অফিস ফেরত নীতি মেনে নির্দিষ্ট হাব অফিসে স্থানান্তর হতে বলা হয়েছে।
উবারের গ্লোবাল কমিউনিটি অপারেশনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মেঘা ইয়েথাটিকা নিজ বিভাগের কর্মীদের একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় বলেন, ‘আমাদের পুরো সংস্থা অনেক বেশি জটিল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।’"
তিনি জানান, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে বিভাগটি বেশকিছু অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে নতুন প্রযুক্তিটির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন।
বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত কাজের ওপর কখনই বড় কোনো প্রযুক্তি সফলভাবে পরিচালনা করা যায় না।
সাম্প্রতিক সময়ে অর্থসেবা প্রদানকারী সংস্থা ব্লক ইনক ও ক্লাউড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল করপোরেশনের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে এআই ব্যবহারের কথা তুলে ধরেছে।
উল্লেখ্য, দুই মাসের কম সময়ের মধ্যে এটি উবারের দ্বিতীয় দফায় কর্মী ছাঁটাই।
এর আগে গত জুনে উবারের নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তথাকথিত ‘পিপল ডিরেক্টরি’ বা মানবসম্পদ বিভাগ থেকে ২৩ শতাংশ কর্মী কমায়। এটি উবারের বিশ্বব্যাপী ৩৪ হাজার কর্মীর ১ শতাংশেরও কম। যদিও গ্রাহকসেবা বিভাগে ঠিক কতজন কর্মী কর্মরত আছেন, তার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি উবার।
কোম্পানিটি গত মে মাসে জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে এআই ব্যবহারের কারণে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি ধীর করে আনা হবে। অবশ্য এত কিছুর পরও ক্যারিয়ার পেজে বর্তমানে ৫০০টিরও বেশি পদের জন্য নতুন কর্মী খোঁজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রোবোট্যাক্সি অংশীদারত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে প্রকৌশলী বা ইঞ্জিনিয়ার পদে উল্লেখযোগ্য কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো চলমান।