আইপিও বিধিমালায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব বিএসইসির

বিদ্যমান বিধিমালায় প্রি-আইপিও পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা, আইপিও-পরবর্তী পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা এবং সাধারণভাবে পোস্ট-আইপিও মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার শর্ত রয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানির আর্থিক তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করা, আইপিওর সঙ্গে বিদ্যমান শেয়ার বিক্রির সুযোগ চালু এবং শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ ও বরাদ্দ পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ২০২৫ সালের পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলস সংশোধনের এ প্রস্তাবে আইপিওর অর্থ ব্যবহারে সীমা আরোপ এবং বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের লক-ইন বিধানেও পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে।

গতকাল প্রস্তাবিত সংশোধনীর খসড়া প্রকাশ করে জনমত আহ্বান করেছে কমিশন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি জমা দিতে বলা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, আইপিও আবেদনের আগে বিএসইসির অনুমোদিত প্যানেল থেকে নিয়োগ করা নিরীক্ষকের মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করাতে হবে। এ যাচাইয়ে আর্থিক বিবরণী, আয়, পাওনা-দেনা, মজুদ পণ্য, স্থায়ী সম্পদ, ঋণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন, কর পরিপালন, করপোরেট গভর্ন্যান্স, শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো এবং প্রসপেক্টাসে প্রকাশিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যাচাই প্রতিবেদনটি বিধিবদ্ধ নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে আলাদাভাবে প্রসপেক্টাসে সংযুক্ত করতে হবে।

বিদ্যমান বিধিমালায় প্রি-আইপিও পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা, আইপিও-পরবর্তী পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা এবং সাধারণভাবে পোস্ট-আইপিও মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার শর্ত রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতেও এসব শর্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রি-আইপিও নিট সম্পদমূল্য অন্তত ৫০০ কোটি টাকা হলে কোম্পানিকে আইপিওতে ৫-১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

নতুন সংযোজন হিসেবে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কোম্পানির জন্য আইপিওর পাশাপাশি অফার ফর সেল (ওএফএস) চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় নতুন শেয়ার ইস্যুর পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন। নির্দিষ্ট শ্রেণীর বিদেশী মালিকানাধীন ও বিটিআরসি-নিবন্ধিত কোম্পানির ক্ষেত্রে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা নিট সম্পদমূল্য অথবা ৫০০ কোটি টাকার বেশি বার্ষিক টার্নওভার কিংবা মোট সম্পদের শর্ত রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় নতুন শেয়ারের মাধ্যমে অন্তত ৫ শতাংশ এবং আইপিও এবং ওএফএস মিলিয়ে মোট অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হবে।

শেয়ারের মূল্য নির্ধারণেও পরিবর্তন আনতে চায় কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারকে অন্তত চারটি মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, যার মধ্যে দুটি অ্যাবসলিউট ও দুটি রিলেটিভ পদ্ধতি থাকতে হবে। বুক বিল্ডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত শেয়ার যে সর্বনিম্ন দরে সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হবে, সেই দরকে ভিত্তি করে কাট-অফ মূল্যনির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সফল দরদাতারা নিজেদের প্রস্তাবিত দরেই শেয়ার পাবেন। একই দরে অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে আনুপাতিক হারে বরাদ্দ দেয়া হবে।

আইপিওর অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে। সংগৃহীত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ বা বিনিয়োগ পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে, যদি সংশ্লিষ্ট ঋণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কিংবা আধুনিকায়ন, পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া সাবস্ক্রিপশন অর্থ পৃথক এসক্রো হিসাবে রাখার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

বিনিয়োগকারী শ্রেণীভিত্তিক শেয়ার বরাদ্দেও পরিবর্তন আসছে। ফিক্সড-প্রাইস পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬৫ শতাংশ এবং বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪০ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বুক বিল্ডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ হবে ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের ৫০ শতাংশ প্রথম লেনদেনের দিন বিক্রির সুযোগ রেখে বাকি শেয়ারের একাংশ ৬০ দিন এবং অবশিষ্টাংশ ৯০ দিনের জন্য লক-ইনে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

আরও