উত্তরের জেলা দিনাজপুরে চালের বাজার আবারো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বাড়তে শুরু করেছে খাদ্যপণ্যটির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা ও চিকন সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৪-৬ টাকা বেড়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক মাসে জেলায় তিন দফায় চালের দাম বেড়েছে।
এক সপ্তাহ আগেও জেলার পাইকারি বাজারে ২৮ ও ২৯ জাতের চাল কেজিপ্রতি ৪২-৪৩ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে একই জাতের চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৪৭ টাকা। প্রতি কেজি মিনিকেট চাল আগে ৪৪-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে খাদ্যপণ্যটি কেজিপ্রতি ৫০-৫১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও সুমন ও গুঁটি স্বর্ণা জাতের চালের দাম ৩৮ থেকে বেড়ে কেজিপ্রতি ৪২ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। ফলে মিল পর্যায়ে দাম বেড়েছে চালের। মূলত এ কারণেই পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে চাল বিক্রি করছেন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা ও চিকন সব ধরনের চালের দাম ৫০ কেজির বস্তায় ন্যূনতম ২০০ টাকা বেড়েছে।
শহরের পুলহাট এলাকার চাল বিক্রেতা মো. শফিউদ্দীন বণিক বার্তাকে বলেন, মিল পর্যায়ে চালের দাম বেড়েছে। ধানের দাম কিছুটা বেশি থাকায় মিল মালিকরা প্রতি বস্তা চালের দাম ২০০-৩০০ টাকা বেশি রেখে বিক্রি করছেন। তাই আমরাও বাড়তি দামে চাল বিক্রি করছি।
স্থানীয় চালকল মালিক সুজা-উর-রব বণিক বার্তাকে বলেন, এবারের বোরো মৌসুমে স্থানীয় হাটবাজারে আগের তুলনায় বেশি দামে ধান বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে মিল গেটে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষক, মিল মালিক, ব্যবসায়ী—সবার মুখে হাসি ফুটেছে।
এ বিষয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে আলাপকালে দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুজ্জামান জানান, সরকার নির্ধারিত দামে চলতি বছর চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। বোরো সংগ্রহ অভিযানে জেলা খাদ্য বিভাগ এবার মিলারদের কাছ থেকে সব মিলিয়ে ৯১ হাজার ৭২৩ টন চাল ও ৩২ হাজার ৭২ টন ধান কিনবে।