আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহাল, কর দিতে হবে বর্গফুট হিসাবে

চলতি অর্থবছরে এলাকাভিত্তিক জমিতে প্রতি বর্গমিটারে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহাল রয়েছে। তবে আগামী ১ জুলাই থেকে বর্গমিটারের পরিবর্তে বর্গফুট হিসাবে কর দিতে হবে।

আবাসন খাতে কঠিন শর্তে অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শন করা যাবে। তবে আয় হতে হবে বৈধ। দিতে হবে বর্গফুট হিসাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর। সোমবার (২ জুন) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ঘোষিত বাজেট প্রস্তাবনা থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

চলতি অর্থবছরে এলাকাভিত্তিক জমিতে প্রতি বর্গমিটারে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহাল রয়েছে। তবে আগামী ১ জুলাই থেকে বর্গমিটারের পরিবর্তে বর্গফুট হিসাবে কর দিতে হবে।

এছাড়া রিটার্ন দাখিলের আগে আয়কর আইনের ধারা ২১২ অনুযায়ী কোনো আয়, পরিসম্পদ বা ব্যয় গোপন করার জন্য কোনো আয় বা তার অংশবিশেষের ওপর কর ফাঁকি দেয়ার কারণে কোনো নোটিস জারি করা হলে। রিটার্ন দাখিলের আগে ধারা ১৭২ অনুযায়ী কোনো নোটিস জারি করা হলে। রিটার্ন দাখিলের আগে ধারা ৩১১-৩১৩ অনুযায়ী কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে ধারা ২০০ এর অধীনে কোনো কার্যক্রম নেয়া হয়েছে, চলমান রয়েছে এবং কর ফাঁকি সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম চলমান রয়েছে এমন অবস্থায় এ বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

অর্থবিলে (২০২৫) বলা হয়েছে, ঢাকার গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ২০০০ বর্গফুটের অধিক আয়তন বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৯০০ টাকা আর অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

সে হিসাবে ২ হাজার বর্গফুট আয়তনের কোনো বিল্ডিং প্রদর্শন করলে কর দিতে হবে ১৮ লাখ টাকা। ২ হাজার বর্গফুট আয়তনের কোনো বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে কর দিতে হবে ৪০ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরে ঢাকার গুলশান থানা, বনানী, মতিঝিল, তেজগাঁও, ধানমন্ডি, ওয়ারী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন, কাফরুল, নিউমার্কেট ও কলাবাগান থানার অন্তর্গত সব মৌজায় স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেসে প্রতি বর্গমিটারে ৬ হাজার টাকা, এসব এলাকায় জমির ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারে ১৫ হাজার টাকা কর দিতে হচ্ছে।

ঢাকার গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত অনধিক ২০০০ বর্গফুট প্লিন্থ আয়তনের বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৮০০ টাকা এবং অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে দিতে হবে ১৮শ টাকা।

ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ডিফেন্স অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি (ডিওএইচএস), মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সিদ্ধেশ্বরী, কারওয়ান বাজার, বনশ্রী, বিজয় নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা ও নিকুঞ্জ এবং চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশী, আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ এলাকায় অবস্থিত ২০০০ বর্গফুটের অধিক প্লিন্থ আয়তন বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৮০০ টাকা আর অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে দিতে হবে ১৮শ টাকা।

ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ডিফেন্স অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি (ডিওএইচএস), মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সিদ্ধেশ্বরী কারওয়ান বাজার, বনশ্রী, বিজয় নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা ও নিকুঞ্জ, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশী, আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ এলাকায় অবস্থিত অনধিক ২০০০ বর্গফুট প্লিন্থ আয়তন বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৬৫০ টাকা আর অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

উল্লিখিত এলাকা ছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত ১৫০০ বর্গফুটের অধিক প্লিন্থ আয়তন বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৪০০ টাকা এবং অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৭০০ টাকা। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত অনধিক ১৫০০ বর্গফুট প্লিন্থ আয়তন বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৩৫০ টাকা এবং অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৬০০ টাকা।

কোনো জেলা সদরের পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত ১৫০০ বর্গফুটের অধিক প্লিন্থ আয়তন বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ১৮০ টাকা এবং অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৩০০ টাকা।

জেলা সদরের পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত অনধিক ১৫০০ বর্গফুট প্লিন্থ আয়তন বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ১৫০ টাকা এবং অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ২৫০ টাকা।

উপরে উল্লিখিত এলাকা ছাড়া অন্য কোনো এলাকায় অবস্থিত ১৫০০ বর্গফুটের অধিক প্লিন্থ আয়তন বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৮০ টাকা এবং অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ১৫০ টাকা। একই ক্ষেত্রে অনধিক ১৫০০ বর্গফুটের অধিক প্লিন্থ আয়তন বিশিষ্ট বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৫০ টাকা এবং অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ১০০ টাকা।

অর্থ আইন ২০২৪-এ বলা হয়েছিল, ‘আয়কর আইন, ২০২৩ বা অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তির কোনো পরিসম্পদ অর্জনের উৎসের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবেন না, যদি ওই ব্যক্তি ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫-এর মধ্যে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের আগে কর পরিশোধ করে ২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্নে অপ্রদর্শিত পরিসম্পদ প্রদর্শন করেন। তবে কর আইন, ২০২৩-এর অধীনে কর ফাঁকির কোনো কার্যধারা চলমান থাকলে; বা এ আইনের অধীন ধারা ২০০-এর অধীন কোনো কার্যক্রম নেয়া হলে এবং তা চলমান থাকলে বা এ আইনসহ অন্য কোনো আইনের অধীনে ফৌজদারি কোনো কার্যধারা চলমান থাকলে এ সুযোগ নেয়া যাবে না।

আরও