অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজারের পরিধি বাড়াতে চায় বিএসইসি

তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর উদ্দেশে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে একটি কোম্পানির সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং একটি শক্তিশালী করপোরেট ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

দেশের পুঁজিবাজারে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা খুব বেশি নয়। এ অবস্থায় ভালো ও স্বনামধন্য ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিগুলোকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত করে বাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে ডাইরেক্ট লিস্টিং বিধিমালার খসড়ার ওপর মতামত ও পরামর্শ নিতে গতকাল অংশীজনদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করেছে বিএসইসি।

বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে সভায় বিএসইসির কমিশনার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), বিভিন্ন তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংক, ইস্যু ম্যানেজার, পেশাজীবী সংগঠন এবং পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ডাইরেক্ট লিস্টিং বিধিমালার খসড়ার ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এতে প্রস্তাবিত বিধিমালার আওতায় সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির জন্য যোগ্য কোম্পানি, আবেদন ও তালিকাভুক্তির শর্ত এবং মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থিত অংশীজনরা খসড়া বিধিমালার বিভিন্ন ধারা ও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিষয়ে নিজেদের মতামত, পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ও সক্ষম কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ এবং বাজারের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা বিভিন্ন মতামত দেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ‘দেশের পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা এখনো পর্যাপ্ত নয়। এ অবস্থায় ভালো ও স্বনামধন্য ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিগুলোকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত করে বাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়াতে চায় কমিশন। এর ফলে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার এবং বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের পথও সুগম হবে। ভালো ও স্বনামধন্য কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে এলে বিনিয়োগকারীদের জন্য মানসম্মত বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বাজারে শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পুঁজিবাজারের গভীরতা ও সক্ষমতা বাড়বে।’

তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর উদ্দেশে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে একটি কোম্পানির সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং একটি শক্তিশালী করপোরেট ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে বিভিন্ন কর-সুবিধা, কোম্পানির মূল্য বৃদ্ধি এবং শেয়ারের তারল্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। এতে কোম্পানির উত্তরাধিকারী বা বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররাও তাদের শেয়ার বিক্রির সুযোগ পান। ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের পাশাপাশি কমিশন আইপিও বিধিমালাকেও আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। কোম্পানিগুলো যাতে একই সঙ্গে বিদ্যমান শেয়ার অফলোড এবং নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অর্থাৎ হাইব্রিড পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসতে পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে ভালো ও যোগ্য কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ আরো সম্প্রসারিত হবে এবং বাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আরও