বগুড়ায় এক লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা

এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর এক লাখ পিস কাঁচা চামড়া ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা।

এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর এক লাখ পিস কাঁচা চামড়া ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা। যদিও ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে গত এক দশকে ৩০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে তাদের।

জানা যায়, উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে বগুড়ায় সবচেয়ে বেশি কাঁচা চামড়া কেনা-বেচা হয়। এ জেলায় প্রতি বছর গড়ে ৮৫-৯০ হাজার গরু এবং ৪০-৫০ হাজার ছাগলের কাঁচা চামড়া কেনা-বেচা হয়। তবে এ বছর কোরবানিদাতার সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় চামড়া কিছু কম সংগ্রহ হতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

চলতি বছর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ৫৫-৬০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫০-৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বগুড়ার ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারিভাবে চামড়ার দাম বেঁধে দেয়া হলেও বগুড়ায় প্রতি বর্গফুট কাঁচা চামড়া ৩৫-৪০ টাকায় কেনা-বেচা হবে। 

বগুড়া চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের যে গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৬০০-১৮০০ টাকা সেই আকারের চামড়া ২০১৮ সালের কোরবানির ঈদে বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকায়। এর আগে ২০১৬ সালে বিক্রি হয়েছে ১৩০০-১৪০০ টাকায়। ২০১৯ ও ২০২০ সালেও চামড়ার তেমন একটা দাম ছিল না। ২০২১ সালে চামড়ার বাজার ছিল সবচেয়ে নিম্নমুখী। তখন ২০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে গরুর চামড়া। ২০২২ সালে ৬০০-৮০০, ২০২৩ সালে ৬০০-১০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে গরুর চামড়া। আর ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা করে।

ঢাকার ট্যানারি মালিকরা যেমন দাম দিয়েছেন, তেমন দামেই বগুড়ায় চামড়া কিনতে হয়েছে বলে জানান বগুড়ার ব্যবসায়ীরা। এ সমিতির আওতায় সদস্য রয়েছেন ৩৮৭ জন। যারা প্রত্যেকেই এবার কাঁচা চামড়া কেনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। 

বগুড়া চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.আব্দুল মতিন সরকার জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা টাকা আদায়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া হলে বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। 

তিনি বলেন, ‘শ্রমিক খরচ, লবণ খরচ দিয়ে একটি চামড়ায় ৪০০-৫০০ টাকা খরচ পড়ে। সরকার যদি ১ হাজার টাকা বেঁধে দেয়, তাহলে খরচ বাদ দিলে একটা চামড়ার দাম মাঝারি গরু ৪০০-৫০০ টাকা এবং বড় গরু ৬০০-৭০০ টাকায় কেনা যেতে পারে। এর বেশি কেনা যাবে না।’

আরও