মেক্সিকোতে ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) ভুট্টার উৎপাদন কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। সংস্থাটির ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের (এফএএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বিপণন বর্ষে দেশটিতে ভুট্টার ফলন কমতে পারে। চাষাবাদের খরচ বা ইনপুট কস্ট বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে ভুট্টার কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা চাষাবাদ কমিয়ে দিতে পারেন। ফলে মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে এ নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।
এফএএস জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে মেক্সিকোর ভুট্টা উৎপাদন গত বিপণন বর্ষের তুলনায় ৩ শতাংশ কমে ২ কোটি ৪৫ লাখ টনে নামতে পারে। যা গত ১০ বছরের গড় উৎপাদনের চেয়েও ৭ শতাংশ কম। ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে দেশটিতে সাদা ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছিল। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে হলুদ ও সাদা ভুট্টার আমদানি অব্যাহত থাকায় মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবারহ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে ভুট্টার বাজারমূল্য এখন উৎপাদন খরচের চেয়েও নিচে নেমে এসেছে।
উৎপাদন কমলেও মেক্সিকোয় ভুট্টার চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে গবাদি পশুর খাদ্য তৈরির জন্য হলুদ ভুট্টার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে ভুট্টার মোট বেচাকেবা ২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ২৫ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।
বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম পশুখাদ্য উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে মেক্সিকোর এ খাতে চাহিদা বেশ চাঙ্গা। ন্যাশনাল ফিড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশটিতে পশুখাদ্য উৎপাদন ২ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ১৮ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটিকে আগের চেয়েও বেশি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হবে। ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে মেক্সিকোর ভুট্টা আমদানি ১ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৬৮ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। মেক্সিকোর মোট আমদানির ৯৯ শতাংশই আসবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সাশ্রয়ী দাম ও উন্নত পরিবহন সুবিধার কারণে মেক্সিকোর আমদানিকারকদের কাছে প্রধান উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম পছন্দ।