জাপানে বিদেশীদের চাকরি পরিবর্তনে নতুন নীতি

জাপানে বিদেশী কর্মীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নীতি পুনর্গঠন হচ্ছে।

জাপানে বিদেশী কর্মীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নীতি পুনর্গঠন হচ্ছে। এর আওতায় আগে নিষেধ ছিল এমন কিছু ক্ষেত্রে প্রথম কর্মস্থলে দুই বছর কাজ করার পর চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ দেয়া হবে। তবে নতুন চাকরিও একই খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে। এ দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত ১৭টি খাতের মধ্যে সাতটির জন্য প্রযোজ্য হবে। খবর জাপান টুডে।

দেশটির প্রচলিত ব্যবস্থা বিদেশী কর্মীদের চাকরি পরিবর্তনের অনুমোদন দেয় না। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কম মজুরিসহ শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সমালোচিত হয়ে আসছিল এ ব্যবস্থা। ফলে কিছু কর্মীর কর্মস্থল ত্যাগের ঘটনাও ঘটেছে।

গত মার্চে বিদেশী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক কর্মসূচির আওতায় একটি মৌলিক নীতি অনুমোদন করেছে জাপান সরকার। কর্মসূচিটি ২০২৭ সালে চালু হবে, যা আগের ‘বিতর্কিত’ বিদেশী প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামকে প্রতিস্থাপন করবে। মূলত জনশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যার মুখোমুখি হয়ে এমন সিদ্ধান্তে এসেছে জাপান।

নতুন নীতি অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে থাকা বিদেশী কর্মীরা তিন বছর কাজের পর দেশের অভ্যন্তরে থাকতে এবং স্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। মূলত ‘স্পেসিফাড স্কিলড ওয়ার্কার’ ভিসার মাধ্যমে এ সুযোগ দেয়া হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম চাকরিতে দুই বছর থাকা অপরিহার্য এমন সাতটি শিল্প হলো খাদ্য পরিষেবা, নির্মাণ, নার্সিং, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ যন্ত্রপাতি, গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

এ সাত শিল্পে দক্ষতা অর্জন করতে সময় বেশি লাগে। তাই এখানে যুক্ত হওয়া বিদেশী কর্মীদের দুই বছরের কাজ করতে হবে। অন্য ১০টি খাতে কর্মীদের চাকরি পরিবর্তনের আগে কমপক্ষে এক বছর থাকা প্রয়োজন।

একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের আলোচনার পর শিগগিই পরিকল্পনাটি মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

নতুন এ ব্যবস্থায় বিদেশী কর্মীদের নিয়োগ দেয়া দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর কিছু খরচ চাপতে পারে। এতে কর্মীর ভ্রমণ ও অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে খরচ হওয়া অর্থ ফেরত পাবেন প্রথম নিয়োগদাতা।

প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের আওতায় থাকা বিদেশী কর্মীদের এক-ষষ্ঠাংশের বেশি টোকিও ও ওসাকাসহ আটটি প্রিফেকচারে স্থানান্তরে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। এর কারণ হলো মজুরি বেশি এমন শহরগুলোয় যেন কর্মী ঘনত্ব না বাড়ে। এছাড়া বাকি ৩৯টি প্রিফেকচারে কোম্পানিগুলো এক-তৃতীয়াংশের বেশি কর্মী নিয়োগ দিতে পারবে না।

জন্মহার হ্রাস ও বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি জাপানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা জানান, শ্রমশক্তির ঘাটতি জাপানের অর্থনীতিতে অন্যতম জরুরি সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিদেশী কর্মীরা দেশটির মোট শ্রমশক্তির মাত্র ৩ শতাংশ। কিন্তু শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধিতে তাদের ভূমিকা অর্ধেকের মতো।

আরও